Advertisement
E-Paper

ইনদওরের মাঠে কোহলিদের ভারতকে হারালেও মাঠের বাইরে মিচেল হেরে গেলেন ইনদওরের ভিক্ষুকের কাছে!

দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হওয়ার তকমা পেয়েছে ইনদওর বহু বার। এ বার সেই শহরকে ‘ভিক্ষুকশূন্য’ করার লক্ষ্য স্থির করেছে পুরসভা এবং প্রশাসন। ইনদওরে ভিক্ষাবৃত্তি, ভিক্ষা দেওয়া, ভিক্ষুকদের থেকে কিছু কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৮
(বাঁ দিকে) ড্যারিল মিচেলের সঙ্গে বিরাট কোহলি।ইনদওরের সেই ভিক্ষুক (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ড্যারিল মিচেলের সঙ্গে বিরাট কোহলি।ইনদওরের সেই ভিক্ষুক (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

রোজ সকালে চার চাকা লাগানো একটা কাঠের পাটাতনে চেপে ভিক্ষা করতে বার হন। কুষ্ঠরোগে হাত-পায়ের আঙুলের অনেকটা অংশই ক্ষয়ে যাওয়ায় কাজকর্মে অপারগ। ৫০ বছরের সেই ভিক্ষুকের সম্পত্তি দেখেই বিস্মিত মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের সরকারি আধিকারিকেরা— তিনটি পাকা বাড়ি, একটি গাড়ি, তিনটি অটো, কয়েক লক্ষ টাকা। সেই টাকা ধার দিয়ে দিনে রোজগার বহু টাকা। সেই ইনদওরে রবিবার ভারত-নিউ জ়িল্যান্ডের এক দিনের সিরিজ়ের তৃতীয় ম্যাচের সেরা হিসাবে এক লক্ষ টাকা এবং সিরিজ়সেরা হিসাবে আড়াই লক্ষ টাকা পেয়েছেন ড্যারিল মিচেল। মাঠে জিতলেও মাঠের বাইরে তিনি হেরে গিয়েছেন ওই ভিক্ষুকের কাছে।

ইনদওর বহু বার দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার শহরের তকমা পেয়েছে। এ বার সেই শহরকে ‘ভিক্ষুকশূন্য’ করার লক্ষ্য স্থির করেছে পুরসভা এবং প্রশাসন। ইনদওরে ভিক্ষাবৃত্তি, ভিক্ষা দেওয়া, ভিক্ষুকদের থেকে কিছু কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম মানা হচ্ছে কি না দেখার জন্য, ভিক্ষুকদের উদ্ধারের জন্য পুরসভা প্রায়ই অভিযানে নামে। সে রকমই এক অভিযানে নেমে সন্ধান মেলে সেই ভিক্ষুকের। সঙ্গে ছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মহিলা এবং শিশু কল্যাণ বিভাগের আধিকারিক দীনেশ মিশ্র জানান, স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়ে শহরের সারাফা এলাকা থেকে ৫০ বছরের ওই ভিক্ষুককে উদ্ধার করা হয়। তাঁর সঙ্গে কথা বলে, তাঁর খোঁজখবর নিয়ে বিস্মিত তাঁরা সকলে।

‘ভিক্ষুকশূন্য’ অভিযানের নোডাল অফিসার দীনেশ। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা জানতে পারি ওই ভিক্ষুকের তিনটি পাকা বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি তিনতলা। তিনটি অটো রয়েছে, যেগুলি ভাড়া খাটান। রোজ নিজের গাড়িতে চেপে ভিক্ষা করতে যান। গাড়ি চালানোর জন্য চালকও রেখেছেন। আর নিজে চাকা লাগানো কাঠের পাটাতনে বলে পথ চলেন।’’ তিনি আরও জানান, ২০২১ সাল থেকে ভিক্ষা করছেন ওই ব্যক্তি। চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা খাটান সোনা-রুপোর বাজারে। তা থেকে দৈনিক ১০০০ থেকে ১,২০০ টাকা সুদ পান। এ সবের পাশাপাশি দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভিক্ষা করে রোজগার করেন তিনি। উদ্ধারের পরে একটি হোমে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।

জেলাশাসক শিবম বর্মা জানিয়েছেন, ইনদওর ‘ভিক্ষুকশূন্য’ শহর। মাঝেমধ্যে কাউকে ভিক্ষা করতে দেখা গেলে স্থানীয়েরা প্রশাসনকে খবর দেন। তখন তাঁদের উদ্ধার করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। ওই ভিক্ষুকের সম্পত্তির হদিস মিলেছে। সব তথ্য খতিয়ে দেখে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রধান রুপালি জৈনের দাবি, ওই ভিক্ষুকের বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে দেখা উচিত। শুধু ভিক্ষা করে ওই অর্থ তিনি উপার্জন করেননি। আগে তিনি মিস্ত্রির কাজ করতেন। কুষ্ঠ হওয়ার পরে কাজ করতে পারেননি। তখন ভিক্ষার পথ অবলম্বন করেন। সারাফা এলাকায় ভিক্ষা করতেন তিনি। এর আগেও তাঁকে বেশ কয়েক বার বোঝানো হয়েছে। সে সময় ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে রাজি হলেও পরে আবার গিয়ে তিনি বাটি হাতে বসে পড়েন বলে অভিযোগ। রুপালির মতে, অসুখের কারণে সমাজ, পরিবার তাঁকে একঘরে করেছে। সে কারণেও তিনি এই পথ নিতে কিছুটা বাধ্য হয়েছেন। পুরসভা, প্রশাসন সে সব মানছে না। তারা জানিয়েছে, আইনি পদক্ষেপ করা হবে ভিক্ষুকের বিরুদ্ধে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy