ফুসফুসে প্রবেশ করেছিল জল। তার জেরে শ্বাসরোধ এবং তার পরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, এ ভাবেই মৃত্যু হয়েছিল নয়ডার যুবরাজ মেহতার। শুক্রবার রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে যাঁর গাড়ি পড়ে গিয়েছিল নির্মীয়মাণ শপিং মলের জন্য খনন করা গহ্বরে। বৃষ্টির জলে ভরা ৭০ ফুট গভীর সেই খাদে যখন তাঁর গাড়ি পড়ে গিয়েছিল, তখন কোনও মতে তার উপরে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন যুবরাজ। সে ভাবে কেটেছিল প্রায় ৯০ মিনিট। তার পরে সেই গাড়ি পুরোপুরি তলিয়ে যায় খাদে।
শুক্রবার রাতে অফিস থেকে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ২৭ বছরের যুবরাজ। শীতের রাতে ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা নেমে গিয়েছিল অনেকটাই। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ বাঁক ঘুরতে গিয়ে খাদে পড়ে যায় যুবরাজের গাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাবা। পুলিশ, দমকল কর্মী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এলেও শেষরক্ষা হয়নি। পরিবার আঙুল তুলেছে প্রশাসনের দিকে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুসারে, যুবরাজের ফুসফুসে মিলেছে ২০০ মিলিলিটার তরল। মৃত্যুর কারণ হল ‘জলে ডুবে শ্বাসরোধ, তার পরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’।
আরও পড়ুন:
সাঁতার জানতেন না যুবরাজ। কোনও মতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে তার উপরে উঠে দাঁড়িয়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন তিনি। সূত্রের খবর, সে ভাবে ছিলেন প্রায় ৯০ মিনিট। ফোন করে বিপদের কথা জানান বাবাকে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন তাঁর বাবা রাজ মেহতা। নিজের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের নিজের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করেন যুবরাজ। সাহায্য চেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। ধীরে ধীরে ডুবতে থাকে গাড়ি। শনিবার ভোরে ওই খাদ থেকে উদ্ধার হয় যুবরাজের দেহ।
এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছে যুবরাজের পরিবার। তারা জানিয়েছে, ওই খাদ ঢাকার কোনও চেষ্টা করা হয়নি। সেটিকে চিহ্নিত করার জন্য রিফ্লেক্টরও বসানো হয়নি। পুলিশ যদিও অভিযোগ মানেনি। নয়ডার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনা রাজীব নারায়ণ মিশ্র জানান, পুলিশ এবং দমকলকর্মীরা মই, ক্রেন, নৌকা নিয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দৃশ্যমানতা কম থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। এই ঘটনার পরে সক্রিয় হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ওই খাদ ভরার কাজ চলছে। নয়ডার অ্যাডিশনাল সিইও জানিয়েছেন, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কয়েক জন আধিকারিককে শো কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে।