ভারত-সহ ১৬টি দেশের উপর ফের অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে পারে আমেরিকা। বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তরফেই তেমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ওই ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে নিয়ম না-মেনে বাণিজ্য করার অভিযোগ তুলেছে হোয়াইট হাউস। তাই এই দেশগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকা।
১৬টি দেশের তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সমবায়)। উপরিউক্ত দেশগুলি আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সঙ্গী। তা ছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসন সুইৎজ়ারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে।
বুধবার আমেরিকার অন্যতম বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির জানান, সে দেশের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে এই তদন্তপ্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তদন্তে অন্যায় বা অন্যায্য কিছু ধরা পড়লে দেশগুলির বিরুদ্ধে নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আমেরিকার অভিযোগ, ওই ১৬টি দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা এমন ভাবে বৃদ্ধি করেছে, যা ঘরোয়ো এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। হোয়াইট হাউসের এ-ও অভিযোগ যে, কয়েকটি দেশ তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে অল্প দামে বিপুল পরিমাণ পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আমেরিকার দাবি, জোর করে দেশীয় পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আরও ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে। সেই দেশগুলির বিরুদ্ধে একই রকম ভাবে তদন্ত শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। গ্রির বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়ম না-মেনে বাণিজ্য করা বন্ধ করতে চান। সে ক্ষেত্রে তিনি আবার শুল্ক চাপাতে পারেন ওই দেশগুলির উপরে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে উনি একটি উপায় খুঁজছেন এবং আমাদের ঘরোয়া উৎপাদনকে সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন।”
একটি রায়ে ট্রাম্পের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের নীতি বাতিল করে দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আমেরিকার শীর্ষ আদালত জানায়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের উপরে যে বাড়তি শুল্ক চাপানো হয়েছিল, সেগুলি আর কার্যকর হবে না। আর ওই হারে শুল্ক আদায় করা হবে না। সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরেই ট্রাম্প প্রতিটি দেশের উপর ১৫ শতাংশ ‘সাময়িক শুল্ক’ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি এই ধরনের শুল্ক কার্যকর করা যায় না। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা জানিয়েছে, ওই ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া ওই সময়সীমার মধ্যেই শেষ করা হবে।