হরমুজ প্রণালীতে এ বার হামলা চালানো হল গুজরাতগামী জাহাজে। তাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ওই বাণিজ্যিক জাহাজটি গুজরাতের কান্ডালা বন্দরে আসছিল বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা এএফপি। হামলার পরেই জাহাজটির একাংশে আগুন ধরে যায়।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ‘ময়ূরী নারী ব্যাঙ্কক’ নামের ওই জাহাজটি থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করেছে ওমানের নৌসেনা। তবে তিন জন জাহাজের ভিতরেই ছিল। তাঁরা কেমন রয়েছেন, নিরাপদে রয়েছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সমুদ্রবাণিজ্যের উপর পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ জানিয়েছে, ওমান উপকূল থেকে ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে পণ্যবাহী জাহাজটির উপরে হামলা চালানো হয়। তবে এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আকাশপথে হামলা চালানো হয়। যার মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি উদ্ধার করা গেলে এই বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মাঝ-সমুদ্রে আগুন ধরে যাওয়ার পর জাহাজটি থেমে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ওমানের নৌবাহিনী। তার পর শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়। ভিতরে থাকা বাকি তিন জনকেও বার করে আনতে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। জাহাজটির মালিকানা রয়েছে তাইল্যান্ডের সংস্থা ‘প্রিসিয়াস শিপিং’-এর হাতে। হামলার সময় পণ্য-সহ জাহাজটির মোট ওজন ছিল ৩০ হাজার টন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির খলিফা বন্দর থেকে ছেড়েছিল জাহাজটি। তার পর পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর হয়ে জাহাজটির গুজরাতে পৌঁছোনোর কথা ছিল। তবে ওই জাহাজে কী কী পণ্য ছিল, এখনও তা জানা যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ় প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে দিয়েছে ইরান। ওই সরু প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করলেই হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তারা। হামলার আশঙ্কায় অধিকাংশ জাহাজই প্রণালীতে ঢোকার আগে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বুধবার কেন্দ্রের জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশকুমার সিন্হা জানান, পারস্য উপসাগরে ভারতের ২৮টি জাহাজ আটকে রয়েছে। এই জাহাজগুলিতে রয়েছে ৭৭৮ জন। সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর মন্ত্রক নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন রাজেশ। জাহাজকর্মীদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের দূতাবাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
ওমান এবং পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ় প্রণালী ইরান কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় তেল এবং গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারগুলি সেখানগুলি দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারতে মোট আমদানি হওয়া অশোধিত তেলের ৪০ শতাংশ এবং পেট্রোলিয়াম গ্যাসের ৮০ শতাংশ পশ্চিম এশিয়া থেকেই আসে। এই পরিস্থিতিতে তেল এবং গ্যাসের জোগান নিয়ে অনিয়শ্চয়তা তৈরি হয়েছে।