Advertisement
E-Paper

নামতে চায়নি পুলিশ, দমকল! শীতের রাতে কোমড়ে দড়ি বেঁধে ইঞ্জিনিয়ারকে বাঁচাতে খাদে নেমেছিলেন ডেলিভারি বয়

একটি সংস্থার হয়ে জিনিসপত্র ডেলিভারি করেন মণিন্দ্র। শুক্রবার রাতে নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর যে খাদে গাড়ি নিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন যুবরাজ, তার পাশ দিয়েই আসছিলেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৬
খাদে নেমেও যুবরাজ মেহেতা (ইনসেট)-কে বাঁচাতে পারেননি মণিন্দ্র।

খাদে নেমেও যুবরাজ মেহেতা (ইনসেট)-কে বাঁচাতে পারেননি মণিন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে নয়ডায় খাদে পড়ে যাওয়া যুবককে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। তাদের সঙ্গেই সেখানে ছিলেন এক ডেলিভারি এজেন্ট। পুলিশ, দমকল কর্মীরা যখন ৭০ ফুট গভীর খাদে নামতে চাননি বলে যুবকের পরিবারের অভিযোগ, তখন কোমড়ে দড়ি বেঁধে সেখানে নেমে পড়েছিলেন মণিন্দ্র। যদিও তত ক্ষণে সব শেষ। গোটা ঘটনায় তিনি আঙুল তুলেছেন পুলিশ, দমকল এবং প্রশাসনের দিকে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের ‘সদিচ্ছা’ থাকলে যুবরাজ মেহতাকে বাঁচানো যেত।

একটি সংস্থার হয়ে জিনিসপত্র ডেলিভারি করেন মণিন্দ্র। শুক্রবার রাতে নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর যে খাদে গাড়ি নিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন যুবরাজ, তার পাশ দিয়েই আসছিলেন তিনি। যখন শোনেন, এক যুবক সেখানে পড়ে গিয়েছে, তখন আর কিছু ভাবেননি ডেলিভারি বয়। কোমড়ে দড়ি বেঁধে নেমে পড়েন গভীর সেই খাদে। মণিন্দ্র সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে জানিয়েছেন, ওই রাতে খাদে নামতে অনীহা ছিল পুলিশ এবং দমকলকর্মীদের। যখন তিনি বুঝতে পারেন, যুবরাজের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, তখন তিনি সেই খাদে নেমে যান। যদিও তত ক্ষণে ইঞ্জিনিয়ার যুবকের শরীরে আর প্রাণ ছিল না।

নয়ডার ওই এলাকায় একটি শপিং মল তৈরি হচ্ছিল। সেই নির্মাণের জন্যই খনন করা হয়েছিল গভীর গর্ত। সেখানে জল, কাদা জমেছিল। শুক্রবার গভীর রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেই খাদে গাড়ি নিয়ে পড়ে যান যুবরাজ। ডেলিভারি এজেন্ট মণিন্দ্র জানিয়েছেন, ১০ দিন আগে ওই একই জায়গায় একটি ট্রাক পড়ে গিয়েছিল। প্রশাসনকে জানানোর পরেও তারা কোনও ব্যবস্থা করেনি। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছে যুবরাজের পরিবার। তারা জানিয়েছে, ওই খাদ ঢাকার কোনও চেষ্টা করা হয়নি। সেটিকে চিহ্নিত করার জন্য রিফ্লেক্টরও বসানো হয়নি। নলেজ পার্ক থানার এসআই সর্বেশ কুমার জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্ত হবে। দোষী কেউ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুবরাজ গুরুগ্রামের একটি ডেটা সায়েন্স সংস্থায় চাকরি করতেন। শুক্রবার গভীর রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল দিল্লি, নয়ডা-সহ আশপাশের এলাকা। দৃশ্যমানতা ছিল খুব কম। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর কাছে বাঁক ঘুরতে গিয়ে গহ্বরে পড়ে যায় যুবরাজের এসইউভি গাড়ি। সেখানে রাস্তার ধারে রেলিংটি ভাঙা ছিল বলে অভিযোগ।

সাঁতার জানতেন না যুবরাজ। কোনও মতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে তার উপরে উঠে দাঁড়িয়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন তিনি। ফোন করে বিপদের কথা জানান বাবাকে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন তাঁর বাবা রাজ মেহতা। নিজের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের নিজের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করেন। সাহায্য চেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার ভোরে ওই খাদ থেকে উদ্ধার হয় যুবরাজের দেহ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy