গোরক্ষপুর-ফুলপুর উপনির্বাচনে হাত ধরেছিলেন দুই রাজনৈতিক ‘চিরশত্রু’। তাতে সাফল্য এসেছিল। বসপা-সপার মিলিত শক্তি দুই কেন্দ্রেই হারিয়ে দিয়েছিল বিজেপিকে। লোকসভা ভোটেও শেষ পর্যন্ত বুয়া-বাবুয়ার সেই জোটই অটুট থাকার ঘোষণা করায় কি চাপে বিজেপি? অন্তত সমাজবাদী পার্টি (সপা) সুপ্রিমো অখিলেশ সিংহ যাদবের দাবি তেমনটাই। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতারা নাকি রাজনৈতিক কেরিয়ার বাঁচাতে জোটে শামিল হতে চাইছেন, টুইটে দাবি অখিলেশের।
শনিবার সমাজবাদী পার্টির (সপা) সঙ্গে জোট ঘোষণা করেছিলেন। ৩৮-৩৮ ফর্মুলায় আসন সমঝোতার ঘোষণাও করেন মায়া-অখিলেশ। আবার রবিবার কংগ্রেসও উত্তরপ্রদেশে ‘একলা চলো’ নীতি ঘোষণা করেছে। তার মধ্যেই অখিলেশ দাবি করে বসলেন জোটের ঘোষণা হতেই, বিজেপি নেতারা শঙ্কিত, আতঙ্কিত। টুইটারে অখিলেশ লিখেছেন, ‘‘শুধু রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা-নেত্রীরাই নন, নিচু স্তরের কর্মীরাও জোটে শামিল হতে চাইছেন।’’
ব্যাখ্যা দিয়ে অখিলেশের বক্তব্য, ‘‘বিজেপির বুথ স্তরের কর্মীরা এখন বলছেন, ‘হামারা বুথ, হুয়া চাকনাচুর’। নিচু স্তরের এই কর্মীরা এতটাই হতাশ যে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সপা-বসপায় ভিঁড়তে চাইছেন।’’ যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এর কোনও প্রত্যুত্তর মেলেনি।
আরও পডু়ন: মহাজোটে ধাক্কা! উত্তরপ্রদেশে একা লড়ে ৮০ আসনেই প্রার্থী দেবে কংগ্রেস, প্রচারে রাহুলের ১৩ সভা
আরও পড়ুন: বিজেপির বিরুদ্ধে জোর প্রচারে নামছে সপা-বসপা জোট, এক সঙ্গে ২০টি সমাবেশ ১৮ ডিভিশনে
উত্তরপ্রদেশে মোট লোকসভার আসন ৮০টি। ২০১৪ সালে আগের বারের লোকসভা ভোটে মোদী ম্যাজিকে উত্তরপ্রদেশে কার্যত হাওয়া হয়ে যায় সপা এবং বসপা। আলাদা লড়ে অখিলেশের দল পেয়েছিল মাত্র পাঁচটি আসন। সপার ঝুলি ছিল শূন্য। অন্য দিকে বিজেপি এবং তাদের সহযোগী ‘আপনা দল’ মিলে ৭৩টি আসনে জয়লাভ করে। তার পর বিধানসভা নির্বাচনেও ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। কিন্তু গত বছর ফুলপুর এবং গোরক্ষপুর লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রায় ২৫ বছর পর জোট করে লড়াই করে উত্তরপ্রদেশের যুযুধান দুই দল সপা এবং বসপা।
(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)