২৪ বছর পর হাতে হাত মিলিয়ে এ বার উত্তরপ্রদেশের জেলায় জেলায় যৌথ সভা, সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি (বসপা) ও অখিলেশ যাদবের দল সমাজবাদী পার্টি (সপা)। ঠিক হয়েছে, রাজ্যের ১৮টি ডিভিশনে ২০টি যৌথ সমাবেশ হবে। তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসী দিয়েও শুরু হতে পারে। সপা, বসপার ওই যৌথ সমাবেশগুলি কবে কোথায় হবে, তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও, বিজেপির তারকা নেতাদের নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির একটিও সেই সমাবেশের তালিকা থেকে বাদ পড়বে না বলে সপা, বসপা জোট সূত্রের খবর।

সমাবেশগুলির লক্ষ্য হবে ৩টি। এক, সপা এবং বসপা, দু’টি দলেরই তৃণমূল স্তরের কর্মী, নেতৃত্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে, মায়াবতী ও অখিলেশের মধ্যে বোঝাপড়ার কোনও অভাব নেই। তাই দীর্ঘ দিনের বিরোধ, বিবাদ ভুলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে দু’টি দলেরই নীচের তলার কর্মী, সমর্থকদের হাতে হাত মিলিয়ে চলতে হবে। দুই, যাতে একই বার্তা পৌঁছয় দু’টি দলের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্কের কাছে। তিন, জাতপাতের সমীকরণগুলি সঠিক ভাবে মেলে আর তাতে জোট প্রার্থীদের ভোটের ঝুলি ভরে।

নিজেদের ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতে এতটাই মরীয়া হয়ে উঠেছে সপা যে, অখিলেশ যাদব তাঁর ‘রথ যাত্রা’ কর্মসূচি বাতিল করে যৌথ সমাবেশকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন।

সপা, বসপা দু’টি দলই রাজ্যের ৮০টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি করে আসনে লড়বে, এটা ঠিক হয়ে গেলেও, কোন দল কোথায় প্রার্থী দেবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কোন আসনে কোন দলের প্রার্থী দাঁড়াবেন, এই সমাবেশগুলিই তার মানদণ্ড হবে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী ও তাঁর মা সনিয়া গাঁধীর আসন বলে অমেঠী ও রায়বরেলীতে জোট কোনও প্রার্থী দেবে না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্যের বাকি দু’টি লোকসভা আসন জোটের কোন শরিককে ছাড়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গতকাল এ ব্যাপারে কারও নামোল্লেখ করেননি অখিলেশ। গতকাল মায়াবতীর ঘোষণা, এসপি-বিএসপি ৩৮টি করে আসনে লড়বে। দু’টি কংগ্রেসকে দিয়ে বাকি দু’টি দেওয়া হবে ছোট দলকে (আরএলডি)। তবে অজিত সিংহের রাষ্ট্রীয় লোকদলের সঙ্গে তাঁদের কথাবার্তা চলছে বলে জোট সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন- ঘুম ছোটাব, টিপুকে নিয়ে হুঙ্কার মায়ার​

আরও পড়ুন- মায়া-অখিলেশ জোটে কপালে ভাঁজ বিজেপির​

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতেও এই জোট একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে এসপি এবং বিএসপির সম্পর্ক ছিল আদায়-কাঁচকলায়। দু’দলের সম্পর্কের সুর কেটেছিল এই লখনউয়েই, ১৯৯৫ সালের গেস্ট হাউস কাণ্ডের পরে। তার আগে ১৯৯৩-এ মুলায়ম সিংহ যাদবের এসপি এবং কাঁসিরামের বিএসপি জোট বেঁধেই বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল রাজ্যে। দু’বছর পরে বিএসপি মুলায়ম সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেবে বলে ঘোষণা করে। ১৯৯৫-এর ২ জুন রাতে লখনউয়ের গেস্ট হাউসে দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন মায়াবতী। এসপির ক্ষিপ্ত নেতা-কর্মীরা হামলা চালায় সেখানে। সে রাতে প্রাণ হাতে নিয়ে পালাতে হয় তাঁকে। এর পরে বিজেপির সঙ্গে মিলে সরকার গড়েন মায়াবতী। আর জোড়া লাগেনি দু’দলের সম্পর্ক। ২৩ বছর পর জোড়া লাগাল অভিন্ন শত্রু বিজেপি। সম্প্রতি সংসদ চত্বরে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন দু’দলের সাংসদেরা। এ বার দুই শীর্ষ নেতাও। 

সাংবাদিক বৈঠকের পরেই দু’দলের জোটের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে টুইট করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুল গাঁধী দুবাইয়ে জানান, জোটের দুই দলের নেতা-নেত্রীর প্রতি তাঁর গভীর আস্থা আছে। তাঁদের জোট করার অধিকার আছে। তবে কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশে পূর্ণ শক্তি দিয়েই লড়বে।