Advertisement
E-Paper

‘রক্ত পরীক্ষায় ২০ জায়গার নমুনা লাগে?’ ভিভিপ্যাট নিয়ে মন্তব্য অরোরার

কী বলছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা?

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৯ ০২:৩৮
ছবি: এপি।

ছবি: এপি।

সাত দফা ভোটের প্রথম দফায় ৯১টি কেন্দ্রে ভোট হয়ে দিয়েছে। তিন দিনের মাথায় আরও ৯৭টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে দ্বিতীয় দফায়। এখনও ইভিএম নিয়ে সন্দেহ ও অভিযোগের চাপানউতোর সমানে চলেছে। যার জেরে আজ ফের এ নিয়ে মুখ খুলতে হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরাকে। বেশি ভিভিপ্যাট গোনার দাবিটি এ দিন কার্যত খারিজ করে দিয়ছেন তিনি।

গত বছর কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যা বলে আসছেন, ইভিএম নিয়ে অবশ্য তার বাইরে নতুন কথা শোনা যায়নি তাঁর মুখে। এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ দিনও তিনি দাবি করেছেন, বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র (ইভিএম) কোনও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত নয়। এগুলিতে যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু ইভিএমে কারচুপি করা অসম্ভব।’’

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কংগ্রেস, আপ, এসপি, বিএসপি ও বাম দল-সহ ২১টি বিরোধী দলের বৈঠক করেছে গত কাল। ওই বৈঠকের পরে টিডিপি নেতা তথা অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু ফের ব্যালটে ফেরার পক্ষে সওয়াল করলেও, ভোট-পর্ব শুরু হয়ে যাওয়ার পরে এখন আর তা সম্ভব নয়। সে কারণে বিরোধীরা এখন জোর দিচ্ছেন যথাসম্ভব বেশি ভিভিপ্যাট স্লিপ গোনার উপরে। গত কালই তাঁরা ঘোষণা করেছেন, অন্তত ৫০ শতাংশ ভিভিপ্যাট স্লিপ মেলানোর দাবি নিয়ে তাঁরা ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। বিজেপি বলছে, হারছে বুঝেই বিরোধীরা ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট নিয়ে এত শোরগোল করছেন।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

এ নিয়ে কী বলছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা? সাক্ষাৎকারে তিনি আজ বলেছেন, ‘‘ভিভিপ্যাট নিয়ে বিস্তারিত হলফনামা দিয়েছি শীর্ষ আদালতে। আগে নির্বাচনী কেন্দ্র পিছু যে কোনও একটি ইভিএমের সঙ্গে কাগজের স্লিপ মেলানোর কথা থাকলেও মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট (গত ৮ এপ্রিলের রায়ে) সেটা বাড়িয়ে পাঁচটি করেছে। স্লিপ মেলানোর কাজটিও হবে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে।’’

অরোরা যোগ করেন, ‘‘এই নির্বাচন কমিশন ইভিএম আবিষ্কার বা উদ্ভাবন করেনি। দু’দশকেরও বশি সময় ধরে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। ভিভিপ্যাট এসেছে এর পরে। মাননীয় আদালতের নির্দেশে কমিশন এটি চালু করেছে।’’ এর পরেই সব বা যথা সম্ভব বেশি ভিভিপ্যাট স্লিপ মেলানোর দাবির প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আপনাকে যদি কোনও রোগীর রক্ত পরীক্ষা করতে, আপনি তার এক জায়গা থেকে, নাকি ২০ জায়গা থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন?’’

সন্দেহ নেই, গোটা প্রক্রিয়াটায় কারচুপি করা যায় না— এটাকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে নিয়েই অরোরা এমন প্রশ্ন করেছেন। যদিও বিরোধীরা মনে করছেন না, কারচুপি অসম্ভব। ইভিএম খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা অস্বীকার করেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। প্রথম দফার ভোটে অনেক ক্ষেত্রে তা হয়েছেও। এর পিছনে চক্রান্ত দেখছেন বিরোধীরা। গত কালই চন্দ্রবাবু মন্তব্য করেছেন, ‘‘গত পাঁচ বছরে যেখানে যেখানে ইভিএম খারাপ হয়েছে, সেখানেই বিজেপি জিতছে। এই খারাপ হওয়াটা পরিকল্পনামাফিক নয় তো!’’

অনেক প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনী বন্ড কিনে রাজনৈতিক দলগুলিকে চাঁদা দেওয়া নিয়েও। দাতার পরিচয় অজ্ঞাত থাকায় ভবিষ্যতে ওই দানের বিনিময়ে দল বা সরকারের কাছ থেকে কেমন কী সুবিধা সে আদায় করছে, তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। দাতার আয়ের উৎসও অজ্ঞাত থেকে যাচ্ছে। এ নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘সবটাই হচ্ছে আদালতের নির্দেশে। আদালতের নির্দেশ নিয়ে আমি মন্তব্য করার কে? তবে হ্যাঁ, নির্বাচন কমিশন ফের দৃঢ় ভাবে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। সেটা হল, দাতার পরিচয় জানা দরকার। আমরা যে শুধু এই নির্বাচনী বন্ডের বিষয়টিই তুলেছি, তা নয়। আরও অনেক বিষয়ে আমরা নিঃশব্দে কাজ করে চলেছি।’’

নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা হিসেবে কাজ করছে বলেও কোনও কোনও রাজনৈতিক দল অভিযোগ তুলেছে। এ প্রসঙ্গ তোলা হলে অরোরা জবাব দেন, ‘‘কোনও নেতা যদি তার প্রমাণ দেন, আমরা প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।’’ কমিশন ও ভোট-পর্বে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রশাসন বেছে বেছে অবিজেপি দলগুলির নেতা-কর্মীদের নিশানা করে তল্লাশি বা অভিযান চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এই ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন

কমিশনারের ব্যাখ্যা, ‘‘তল্লাশি অভিযানে কোনও বৈষম্য করা হচ্ছে না। তবে এই সব তল্লাশি পরে বিশেষ রাজনৈতিক মাত্রা পেতেই পারে।’’

Lok Sabha Election 2019 Sunil Arora VVPAT Election Commission লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy