দীর্ঘ দিনের সহবাস এবং সন্তানের জন্ম যুগলের মধ্যে বিবাহের মতো সম্পর্ক তৈরি করে দেয়। আইনত বিয়ে না হলেও সে ক্ষেত্রে সঙ্গিনী স্ত্রীর সমান আইনের সুরক্ষা পাবেন। একটি মামলায় এমনটাই মন্তব্য করেছে বম্বে হাই কোর্ট। খারিজ করে দেওয়া হয়েছে মামলাকারী যুবকের আবেদন।
যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘ দিন এক তরুণীর সঙ্গে তিনি প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং সহবাস করেছেন। এই সম্পর্কের ফলে তাঁদের এক কন্যাসন্তান জন্মায়। কিন্তু মা বা সন্তানের দায়িত্ব নিতে তিনি অস্বীকার করেন এবং অন্য এক জনকে বিয়ে করেন। সঙ্গিনীর সঙ্গে আইনত বিবাহ না-হওয়ায় তিনি তাঁর বা ওই সন্তানের খরচ বহন করতে চাননি। এর পরেই তরুণী আদালতের দ্বারস্থ হন। গার্হস্থ্য হিংসার মামলা রুজু করেন প্রেমিকের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
তরুণীর অভিযোগ ছিল, দীর্ঘ সহবাসে এর আগে এক বার তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে তখন গর্ভপাতে বাধ্য করা হয়। পরে কন্যাসন্তানের জন্ম হয় কিন্তু প্রেমিক তাঁদের ত্যাগ করেন। এখন সেই কন্যার বয়স আট মাস। নিম্ন আদালত তরুণীর অভিযোগ শুনে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে যুবককে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। বলা হয়, তরুণীর জন্য মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং সন্তানের জন্য মাসে দু’হাজার টাকা করে দিতে হবে যুবককে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন যুবক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। বিচারপতি এমএম নেরলিকারের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়েছে।
২০২২ সালে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন অভিযুক্ত। সেই বিয়ের পর মামলাকারী তরুণী তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। তফসিলি জাতি, জনজাতি আইনেও মামলা হয়। অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, সপ্তাহান্তে একসঙ্গে কাটানো বা রাত কাটানো গার্হস্থ্য সম্পর্কের আওতায় পড়ে না। তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করেন আইনজীবী। মামলা খারিজের আবেদনও জানান। তবে মামলাকরীর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, সহবাস এবং সন্তানের জন্ম ওই সম্পর্ককে গার্হস্থ্য সম্পর্কের সংজ্ঞায় উত্তীর্ণ করেছে। ফলে এ ক্ষেত্রে গার্হস্থ্য হিংসা আইন প্রযোজ্য। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালতের পর্যবেক্ষণ, গার্হস্থ্য হিংসা আইনে কিছু সুরক্ষা মামলাকারী তরুণীর প্রাপ্য। অন্য এক জনকে বিয়ে করে সেই কর্তব্য এড়াতে পারেন না যুবক। সুপ্রিম কোর্টের পুরনো পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বম্বে হাই কোর্ট জানায়, সম্পর্কের মেয়াদ, শারীরিক সম্পর্কের ধরন এবং সন্তানের উপস্থিতি ‘বিবাহের মতো সম্পর্কের’ সমান। তরুণীর অভিযোগগুলি প্রাথমিক ভাবে সে দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করা যায়নি। যদিও যুবকের মা এবং স্ত্রীকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।