পণের টাকা না পাওয়ায় নিত্য ঝামেলা, স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না বেশ কিছুদিন ধরেই। শেষমেশ স্ত্রীকে ‘শায়েস্তা’ করতে সংবাদপত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের বিজ্ঞাপন দিলেন স্বামী।
ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদে। কর্মসূত্রে সৌদি আরবে থাকেন মহম্মদ মুস্তাকউদ্দিন। সেখানে স্থানীয় একটি ব্যাঙ্কের কর্মী তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৫ সালে হায়দরাবাদেরই এক মহিলাকে বিয়ে করেন মুস্তাকউদ্দিন। তাঁদের ১০ মাসের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই ২০ লক্ষ টাকা পণের জন্য স্ত্রীর উপর চাপ তৈরি করতেন মুস্তাকউদ্দিন। কিছুদিন আগেই সপরিবার সৌদি আরব থেকে হায়দরাবাদে ফিরেছিলেন তিনি। অভিযোগ, দেশে ফেরার পর থেকেই পণ নিয়ে স্ত্রীর উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন তিনি। অশান্তি চরমে পৌঁছলে শিশু সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান মুস্তাকউদ্দিনের স্ত্রী। এরপরেই স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে খবরের কাগজে তালাকের বিজ্ঞাপন দিয়ে ফের সৌদি আরবে চলে যান মুস্তাকউদ্দিন। এরপর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করেননি তিনি।
আরও পড়ুন: ভাঁজ করা দোতলা বাড়ি বানিয়ে চমকে দিলেন আইআইটির ছাত্ররা
গত ৪ মার্চ সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনটি খেয়াল করেন মুস্তাকউদ্দিনের স্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গেই শ্বশুরবাড়ি ফিরে যেতে চান তিনি। পুলিশের কাছে ওই মহিলা জানান, শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকী তিনি স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চাইলেও তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ অফিসার এস গঙ্গাধর জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। শরিয়ত আইনে এ ধরনের কোনও নিয়ম আছে কী না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কিছু দিন আগে হায়দরাবাদেরই এক বাসিন্দা হোয়াটঅ্যাপে স্ত্রীকে তিন তালাক পাঠিয়েছিলেন। পোস্ট কার্ডে স্ত্রীকে তিন তালাক পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে এর আগে। তবে পুলিশ জানাচ্ছে, সংবাদ পত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে তালাক দেওয়ার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।