বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন স্ত্রী। সুযোগ বুঝে প্রেমিকাকে বিশাখাপত্তনমের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন নৌসেনা কর্মী। ভেবেছিলেন ভাল সময় কাটাবেন। কিন্তু তা আর হল না। বিবাদের জেরে পলিপাল্লি মৌনিকা নামে ৩১ বছরের ওই তরুণীকে চিন্তাদা রবীন্দ্র খুন করেন বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, তাঁর দেহ কেটে টুকরো টুকরো করেন। তার পরে তার অংশ ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখেন। শেষে নিজেই আত্মসমর্পণ করেন থানায়।
৩০ বছরের রবীন্দ্র আইএনএস ডেগাতে নিযুক্ত ছিলেন। ২০২১ সালে মৌনিকার সঙ্গে একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয়। এর পরে বেশ কয়েক বার তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন রবীন্দ্র। বিশাখাপত্তনমের বিভিন্ন থিয়েটার, পার্কে দেখা করতেন তাঁরা। ২০২৪ সালে অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্র। তার পরেই অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ।
সপ্তাহ কয়েক আগে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রের স্ত্রী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার মৌনিকাকে বাড়িতে ডেকে নেন রবীন্দ্র। সন্ধ্যায় দু’জনের বিবাদ শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিবাদের জেরে মৌনিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন রবীন্দ্র। ধড় থেকে হাত, পা, মাথা কেটে আলাদা করে ফেলেন। পা এবং কোমর একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে ফেলেন। ধড় প্লাস্টিকে ভরে ঢুকিয়ে রাখেন ফ্রিজে। হাত এবং মাথা অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলেন। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, মৌনিকার মাথা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁদের অনুমান, সেগুলি পুড়িয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন:
রবীন্দ্র থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। সেখানে তিনি জানান, গত কয়েক বছরে তাঁর থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা আদায় করেছিলেন মৌনিকা। টাকা না দিলে স্ত্রীকে বলে দেবেন বলে ব্ল্যাকমেল করতেন। তা-ই নিয়ে দু’জনের প্রায়ই বচসা হত। রবিবার তা চরমে উঠলে মৌনিকাকে রবীন্দ্র খুন করেন বলে অভিযোগ। পুলিশ তাঁকে জেরার পরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে ফ্রিজ থেকে মৌনিকার দেহাংশ উদ্ধার করে। খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।