একদিকে ঝাঁ চকচকে সেলুন আর তার অনভিজ্ঞ চিকিৎসক। অন্য দিকে, অবসাদগ্রস্ত এক যুবক। যে কি না রেহাই পেতে চেয়েছিলেন ‘তামাশা’-র হাত থেকে। স্বপ্ন দেখেছিলেন আবার আগের মতো মাথা ভর্তি চুলের। সেই স্বপ্ন পূরণের রাস্তাতেই মারা গেলেন সেই যুবক। কিনারায় এসে পূরণ হল না তাঁর আরও একটা স্বপ্ন। এ স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার।
চেন্নাইয়ের বাসিন্দা ২২ বছরের সন্তোষ ডাক্তারির ফাইনাল ইয়ার স্টুডেন্ট। খুব কম বয়সেই চুল উঠে গিয়ে মাথার বেশিরভাগ অংশই ফাঁকা হয়ে যায় তাঁর। এ নিয়ে আক্ষেপ ছিল বেশ। আর তার থেকে মুক্তি পেতেই চুল প্রতিস্থাপনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। ‘সফল’ সার্জারির পর বেশ খুশিই ছিলেন সন্তোষ এবং তাঁর পরিবার। খুশির অন্ত ঘটল সার্জারির দু’দিনের মাথাতেই। হঠাত্ই মারা গেলেন সন্তোষ। আপাতভাবে, এই সেলুনের গাফিলতির কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হলেও, পুলিশ এখনও সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না। দেহ ময়নাতদন্তের পরই তাঁর মৃত্যু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: আম চোরের বন্ধু! পিটিয়ে খুন ছাত্রকে
তাঁর মা পি জেসবেন জানান, মাস খানেক আগে থেকেই সন্তোষ চুল প্রতিস্থাপনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। সেই মতো টাকাও জোগার করেছিলেন। অনেক খোঁজখবর নিয়ে চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি সেলুনে সার্জারি করাবেন স্থির করেন। সম্প্রতি নগদ ৭৩ হাজার টাকার বিনিময়ে সার্জারি করান সন্তোষ। তারপর থেকেই তিনি ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করেন। তাঁর চিকিৎসকেরা প্রথম দিকে খুব একটা আমল দিতে চাননি। এত বড় সার্জারির ক্ষেত্রে অনেক সময় এই রকম হয়ে থাকে বলে এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। বাড়িতেই সার্জারির দু’দিনের মাথাতে মারা যান সন্তোষ।
চেন্নাই পুলিশের এক কর্তা জানান, যে সেলুনে সন্তোষ চুল প্রতিস্থাপন করিয়েছিলেন তার কোনও বৈধ লাইসেন্স ছিল না। নেই পরিকাঠামোও। সেটা শুধুই সাধারণ সেলুন। এমনকি যে চিকিৎসকেরা সন্তোষের সার্জারি করেছেন, তাঁরাও এ কাজের জন্য অভিজ্ঞ নন। তিনি জানান, পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর সেলুনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে সেটি। হরিপ্রসাদ কস্তুরী এবং ভিনিথ সূর্যকুমারী নামে যুক্ত দুই চিকিৎসক ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ। তাঁদের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে।