Advertisement
E-Paper

কৃষিতে শিবরাজকে আনতে চান মোদী

নরেন্দ্র মোদী সরকারের দু’বছর পূর্তি উৎসবের ফাঁকেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আনার ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়ে গেল সঙ্ঘ-বিজেপিতে।

দিগন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০১৬ ০৩:২৩

নরেন্দ্র মোদী সরকারের দু’বছর পূর্তি উৎসবের ফাঁকেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আনার ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়ে গেল সঙ্ঘ-বিজেপিতে।

বিজেপির শীর্ষ সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই শিবরাজকে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের দায়িত্বে আনতে চাইছেন। কৃষি ক্ষেত্রের উপরে অনেক দিন ধরেই জোর দেওয়ার কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে এই মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা রাধামোহন সিংহের কাজে তেমন সন্তুষ্ট নন তিনি। একবার মন্ত্রীদের বৈঠকে সকলের সামনেই রাধামোহনকে তিনি বলেছিলেন, ‘‘নিজের মন্ত্রক সম্পর্কে আপনি নিজে অবগত না থাকলে বাকিদের কী বোঝাবেন?’’ এখন মোদী চাইছেন, শিবরাজের মতো কাউকে এই মন্ত্রকে এনে আগামী তিন বছরের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে বিপুল বদল আনতে। বিজেপির বক্তব্য, দেশের সিংহভাগ লোক কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তা ছাড়া শিবরাজকে দায়িত্বে আনলে আনলে মন্ত্রকের ওজনও বাড়বে।

অতীতে মনোহর পর্রীকরকে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিইয়ে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী করেছেন মোদী। সঙ্ঘেরও তাতে সায় ছিল। কিন্তু শিবরাজকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আনার অর্থ হল, তাঁকে মধ্যপ্রদেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া। সে কারণেই শিবরাজ এখনও এই প্রস্তাবে সায় দেননি। তাঁর ভাবমূর্তিতে সওয়ার হয়েই তিন-তিন মধ্যপ্রদেশ জয় করেছে বিজেপি। এ বারে তাঁকে সেখান থেকে সরানোর পরিকল্পনাকে মোটেই ভাল চোখে দেখছেন না শিবরাজ অনুগামীরা। লোকসভা নির্বাচনের আগে লালকৃষ্ণ আডবাণী, সুষমা স্বরাজরা এই শিবরাজকেই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদে মোদীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। এ বারে সেই মোদীরই অধীনে শিবারজের মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দলের অনেকেরই না-পসন্দ।

বিজেপি সূত্রের মতে, সঙ্ঘের সঙ্গেও এই নিয়ে একপ্রস্ত আলোচনা হয়ে গিয়েছে। শিবরাজ কেন্দ্রে মন্ত্রী হলে কাকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী করা হবে, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। আপাতত মোদী সরকারের সামাজিক ন্যায় দফতরের মন্ত্রী থাওরচন্দ্র গহলৌত কিংবা ইস্পাত ও খনি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমরের নাম এই পদের জন্য ভাবা হচ্ছে। থাওরচন্দ্র দলিত মুখ, আর তোমর রাজপুত। মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হবে ২০১৮ সালে। দলের নেতাদের একাংশের বক্তব্য, শিবরাজের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা আছে ঠিকই। পাশাপাশি এটাও ঠিক, মধ্যপ্রদেশে সাংগঠনিক দিক থেকে কংগ্রেস বেশ দুর্বল। ফলে মুখ্যমন্ত্রী বদল হলেও রাজ্য হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা নেই।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ আজ বলেন, ‘‘মন্ত্রিসভার রদবদল হবে। তবে কবে হবে, সেটি এখনও স্থির হয়নি।’’ বিজেপি নেতৃত্বের মতে, সরকার ও দলের রদবদল এখন পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন এবং লোকসভা ভোটের কৌশলের নিরিখেই হবে। সর্বানন্দ সোনওয়াল অসমের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল অবশ্যম্ভাবী। গুজরাতের ভোটের আগে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেনকে সরিয়ে তাঁকে রাজ্যপাল বানানোর সিদ্ধান্তও প্রায় পাকা। দিল্লির প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বি এস বাসসিকে উত্তরাখণ্ডের রাজ্যপাল করা নিয়ে জল্পনা চলছে। দলের শীর্ষ সূত্রের মতে, মোদী সরকারের দু’বছর পূর্তি উৎসব শেষ হলেই সরকার ও দলে সামগ্রিক রদবদলের কাজে হাত দেওয়া হবে। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনকে মাথায় রেখে সে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কৃষক নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে ব্যবহার করা হবে। গতকাল সহরানপুরের সভায় রাজনাথকে নিয়ে গিয়েছিলেন মোদী। যদিও অমিত এ দিন বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশে রাজনাথ সিংহকে ব্যবহার করা হলেও মুখ হিসেবে তুলে ধরা হবে না।’’

shivraj singh chouhan agricultural
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy