মুম্বই হামলার লস্কর-ই-তইবা কম্যান্ডার জাকিউর রহমান ও আরও ছয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নয়া অভিযোগ আনছে পাকিস্তান। ওই সাত জনের বিরুদ্ধে হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করার নির্দেশ দিয়েছে পাক সন্ত্রাস-বিরোধী আদালত।
মুম্বই হামলার মামলায় পাকিস্তানে লকভি ও অন্য জঙ্গিদের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব দিল্লি। উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান জঙ্গিদের বিচার
ঠিক মতো করেনি দাবি ভারতের। লকভির জামিন হওয়া নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জেও ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার চেষ্টা করেছিল দিল্লি। চিনের সাহায্যে সেই চেষ্টা আটকায় পাকিস্তান।
কয়েক মাস আগে ইসলামাবাদের সন্ত্রাস-বিরোধী আদালতে মুম্বই হামলায় অভিযুক্তদের চার্জশিটে পরিবর্তন আনতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন পাক সরকারি কৌঁসুলি। তিনি জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাঁরা হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনতে চান। তাতে তাদের শাস্তি দেওয়া সহজ হবে। সেই আর্জিই মেনে নিয়েছে আদালত।
মুম্বই হামলার বিচারে শ্লথ গতির জন্য ভারতের দিকেই আঙুল তুলেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, তাদের অনুরোধ মেনে ওই ঘটনার ২৪ জন ভারতীয় সাক্ষীকে এখনও পাকিস্তানে পাঠায়নি দিল্লি। তাই সাতটি শুনানিতে বিচারের প্রক্রিয়া একটুও এগোয়নি। এই মামলার এক সরকারি কৌঁসুলির বক্তব্য, ‘‘বল এখন ভারতের কোর্টে। ভারত সরকারের উচিত ওই মামলার সব সাক্ষীকেই পাকিস্তানে পাঠানো। তা হলেই দায়রা আদালতে তাঁরা সাক্ষ্য দিতে পারেন।’’
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের পাল্টা দাবি, তদন্তের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের কাছ থেকেও সব সময়ে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। পঠানকোট তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল নওয়াজ শরিফ সরকার। পাক তদন্তকারীদের পঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে এসে তদন্ত করার সুযোগও দিয়েছিল দিল্লি। কিন্তু তার পরে শর্ত মেনে ভারতীয় গোয়েন্দাদের আর পাকিস্তান যাওয়ার অনুমতি দেয়নি ইসলামাবাদ। তার উপরে ভারত-বিরোধী গোলা দেগে পরিস্থিতি জটিল করে দিয়েছেন দিল্লিতে নিযুক্ত পাক রাষ্ট্রদূত আব্দুল বসিত। ফলে তদন্তে সহযোগিতা নিয়ে ভারতের দিকে আঙুল তোলার আগে পাকিস্তানের উচিত কাজকর্ম খতিয়ে দেখা। ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, পাকিস্তানে এখন নওয়াজ শরিফ পার্শ্বচরিত্র। সেনাপ্রধান রাহিল শরিফের নির্দেশেই ভারত-নীতি পরিচালনা করছে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক। এই পরিস্থিতিতে পাক সেনার মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে আদৌ কতটা কড়া পদক্ষেপ করা হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে আদালতে নয়া চার্জশিট পেশ করা সঠিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছে সাউথ ব্লক। ভারতীয় কূটনীতিকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আজমল কসাবদের যারা মুম্বইয়ে হামলা চালাতে পাঠিয়েছিল তারাই আসল অপরাধী বলে মন্তব্য করেছে ভারতের আদালতও। ফলে জাকিউর রহমান লকভি ও অন্য লস্কর চক্রীদের বিরুদ্ধে হত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনাই উচিত।