Advertisement
E-Paper

৬৫ হাজারের চাকরি ছেড়ে ট্যাক্সি চালান মুম্বইয়ের ইঞ্জিনিয়ার

মাসের শেষে ৬৫ হাজার টাকার মাইনেতে অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারতেন আরামের জীবন। লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করতেন এই বৃদ্ধ। এগারোটা ভাষায় অনায়াসে কথা বলতে পারেন তিনি। সন্তানসন্ততি নিয়ে সুখী জীবন। অন্যের প্রয়োজনে তাঁদের পাশে থাকার তাগিদেই ট্যাক্সি চালাতে শুরু করেন মুম্বইয়ের ওই বাসিন্দা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১৭:৪৪
অন্যের প্রয়োজনে তাঁদের পাশে থাকার তাগিদেই ট্যাক্সি চালাতে শুরু করেন মুম্বইয়ের এই বাসিন্দা।

অন্যের প্রয়োজনে তাঁদের পাশে থাকার তাগিদেই ট্যাক্সি চালাতে শুরু করেন মুম্বইয়ের এই বাসিন্দা।

মুম্বই। দেশের বাণ্যিজিক রাজধানীর খ্যাতি আছে আত্মকেন্দ্রিক শহর হিসেবে। কিন্তু এই শহরেরই পরিচিতি বদলে দিচ্ছেন বছর চুয়াত্তরের এক বৃদ্ধ।

বিধ্বংসী আকাশ ভাঙা বৃষ্টিই হোক, বা ২৬/১১ সেই দিনটা। আর কেউ থাকুক না কেন মুম্বইয়ের রাস্তায় দেখা মিলেছে এই অনামী ট্যাক্সি চালকের। কেউ যদি তাঁকে ভোররাতেও ডাকেন তখনও নিজের বাহন নিয়ে হাসিমুখে হাজির তিনি। স্বমহিমায় উজ্জ্বল এই ট্যাক্সি চালক আর পাঁচ জন ট্যাক্সি চালকের থেকে অনেকটাই আলাদা।

কেন?

মাসের শেষে ৬৫ হাজার টাকার মাইনেতে অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারতেন আরামের জীবন। লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করতেন এই বৃদ্ধ। এগারোটা ভাষায় অনায়াসে কথা বলতে পারেন তিনি। সন্তানসন্ততি নিয়ে সুখী জীবন।

এ পর্যন্ত পড়ে নিশ্চয়ই ভাবছেন এমন মানুষ হয়ত শখেই ট্যাক্সি চালান। হয়ত ভেবেও ফেলেছেন কোন পারিবারিক কারণে ট্যাক্সি চালাতে বাধ্য হয়েছেন অনামী ওই প্রৌঢ়।

না শখেও নয় আবার বাধ্য হয়েও নয়। অন্যের প্রয়োজনে তাঁদের পাশে থাকার তাগিদেই ট্যাক্সি চালাতে শুরু করেন মুম্বইয়ের ওই বাসিন্দা।

এক রাতের ঘটনাই আমূল বদলে দেয় এই বৃদ্ধের জীবন। এক রাতে প্রচণ্ড তলপেটের ব্যথায় কাবু তাঁর স্ত্রী। সময় মতো ট্যাক্সি পাননি তাই স্ত্রীকে নিয়ে পৌঁছতে পারেননি হাসপাতালে। গর্ভপাত হয়ে যায় তাঁর স্ত্রীর। এই ঘটনাই আমূল বদলে দেয় এই বৃদ্ধের চিন্তাধারা। ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি ছেড়ে ট্যাক্সি চালাতে শুরু করেন ‘আমচি মুম্বই’-এর ওই নাগরিক। প্রথমে পরিজনেরা তাঁকে সমর্থন না করলেও তাঁর ভাবনার কথা শুনে সম্মতি জানান তাঁরাও।

সেই থেকেই শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা মুম্বইয়ের রাস্তায় দেখা মিলবে তাঁর। মাস গেলে হাজার দশেক টাকা রোজগার হয় ওই ট্যাক্সিচালকের। যাত্রীদের তিনি নিজের কার্ড দিয়ে দেন, যাতে প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন যাত্রীরা।

সম্প্রতি ‘হিউম্যান্স অফ বোম্বে’ নামে এক ফেসবুক পেজে নিজের জীবনকাহিনি পোস্ট করেন তিনি। যখন পোস্ট করেন তখন জানতেনও না অত্যাধুনিক শহরের আত্মকেন্দ্রিকতাকেও হেলায় হারিয়ে দেবেন তিনি। অনন্য সাধারণ এই ট্যাক্সি চালকের জীবনকাহিনিই এখন হিট নেট দুনিয়ায়।

এই সংক্রান্ত আরও খবর...

ছেলের এক কোটি টাকা মাইনে! শুনে বাক্‌রুদ্ধ ঝালাই মিস্ত্রি বাবা

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy