১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনায় মুম্বইয়ে ধৃত ফৈয়াজ় প্রেমজি পুণে থেকে মুম্বইয়ে এসেছিলেন। সেখানে ডোংরিতে একটি হোটেল ভাড়া নেন। ‘লক্ষ্যপূরণে’ শুক্রবারের এক শোভাযাত্রাকে বেছে নেন। পুলিশ জানিয়েছে, ১৫ দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন প্রেমজি। প্রায় ১৫ হাজার ক্যাপসুলে ইঁদুর মারার বিষ ভরেছিলেন। তার পর সেগুলি নিয়ে সোজা মুম্বইয়ে চলে আসেন।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, জেরায় প্রেমজি দাবি করেছেন, এটিকে হত্যা বলা ঠিক হবে না, তিনি ‘মহৎ কাজ’ করতে যাচ্ছিলেন। এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পড়শিদের দাবি, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে তাঁর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ দিন আগে মুম্বইয়ে আসেন প্রেমজি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হোটেলে বসেই গোটা পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রেমজির কাছ থেকে ১৪,৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার হয়েছে। এগুলিই বিলি করার লক্ষ্য ছিল তাঁর। কিন্তু একা হাতে এই কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানতেন তিনি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, কয়েক জনকে এই ক্যাপসুল বিলি করার কাজে লাগান তিনি। কিন্তু কাদের নিয়োগ করেছেন, কত ক্যাপসুল তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছেন, তা খুঁজে বার করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ পুলিশের কাছে। প্রেমজিকে জেরা করে সব তথ্য আদায়ের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
প্রেমজির বাড়ি পুণের বিমান নগরে। তাঁর বাবা একটি রং কারখানায় কাজ করেন। মা এবং বোন ইরানে থাকেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, গত বছর ইরান এবং ইরাকেও গিয়েছিলেন প্রেমজি। সেখানে মাস দুয়ের কাজ করেন। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেশ কয়েক বার ইরান এবং ইরাকে যান তিনি। কিন্তু পরে পুণে ফিরে আসেন পাকাপাকি ভাবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার মুম্বইয়ের একটি শোভাযাত্রায় বিষ ক্যাপসুল বিলি করেন প্রেমজি। তাঁর বিলি করা ক্যাপসুল খেয়ে কয়েক জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে অবস্থা স্থিতিশীল। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার একটি শোভাযাত্রায় ক্যাপসুল বিলি করছিলেন প্রেমজি। বিলি করার সময় তিনি দাবি করেন, এই ক্যাপসুল খেলে ব্যথা নিরাময় হবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। অনেকে তাঁর কথা বিশ্বাস করে সেই ক্যাপসুল নেন। কয়েক জন খেয়েও নেন সেই ক্যাপসুল। প্রেমজিকে কিছু একটা বিলি করতে দেখে শোভাযাত্রায় থাকা কয়েক জন মহিলা স্বেচ্ছাসেবীর সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে সতর্ক করেন। তার পরই পুলিশ এসে প্রেমজিকে গ্রেফতার করে।