E-Paper

রাজস্বে বাড়ছে বঙ্গের দিল্লি-নির্ভরতা

বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বৃহস্পতিবার অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে আগামী অর্থ বছরে রাজ্যের মোট রাজস্ব আয়ের ৫৬ শতাংশই আসছে কেন্দ্রীয় করের ভাগ ও অনুদান থেকে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৩
(বাঁ দিকে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

নয়াদিল্লির উপরে ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে নবান্ন।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বৃহস্পতিবার অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে আগামী অর্থ বছরে রাজ্যের মোট রাজস্ব আয়ের ৫৬ শতাংশই আসছে কেন্দ্রীয় করের ভাগ ও অনুদান থেকে। ষোড়শ অর্থ কমিশন তার রিপোর্টেও পশ্চিমবঙ্গের এই কেন্দ্রীয় সরকারের করের ভাগ ও অনুদানের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অর্থ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, তিনটি রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের উপরে প্রবল ভাবে নির্ভরশীল। বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ।

গত রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে বাজেটের সঙ্গেই ষোড়শ অর্থ কমিশনের রিপোর্ট পেশ করেছিলেন। অর্থ কমিশন আগের মতোই কেন্দ্রের কর বাবদ আয়ের ৪১ শতাংশ রাজ্যগুলির মধ্যে ভাগ করে দিতে বলেছে। রাজ্যগুলির কাছে যে পরিমাণ অর্থ যাবে, এত দিন তার শতকরা ৭.৩২ ভাগ পশ্চিমবঙ্গ পেত। এখন তা কমে শতকরা ৭.২৬ ভাগ হবে। একইসঙ্গে অর্থ কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় করের ভাগ-অনুদানের উপরে নির্ভরশীলতা বেড়ে চলেছে। নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানোর ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। যেখানে ওড়িশা, গোয়া, ছত্তীসগঢ়ের মতো রাজ্যের জিএসডিপি বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের তুলনায় নিজস্ব রাজস্ব আয় ১০ শতাংশের বেশি, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের রাজস্ব আয় জিএসডিপি-র মাত্র৫.৬ শতাংশ।

অর্থ কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের মাথা পিছু আয়ের উপরে রাজ্যের নিজস্ব আয় নির্ভর করছে না। উদাহরণ, বিহারের মাথা পিছু আয় উত্তরপ্রদেশের তুলনায় অনেক কম। আবার উত্তরপ্রদেশের মাথা পিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের মাথা পিছু আয়ের থেকে যথেষ্ট কম। কিন্তু বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ দুই রাজ্যেই কর-জিএসডিপি অনুপাত উত্তরপ্রদেশের থেকে কম। তিনটি রাজ্যই কেন্দ্রীয় করের ভাগ ও অনুদানের উপরে প্রবল ভাবে নির্ভরশীল। গড়পড়তা রাজ্যগুলির মোট রাজস্ব আয়ের ৪২.২ শতাংশ আসে কেন্দ্রের কর বাবদ আয়ের ভাগ ও অনুদান থেকে। উত্তর-পূর্ব ও পার্বত্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রের উপরে নির্ভরতা বেশি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজস্ব আয়ের ৫৩.৫ শতাংশই আসছে কেন্দ্রীয় করের ভাগ-অনুদান থেকে।

অর্থনীতিবিদ অরবিন্দ পানাগড়িয়ার নেতৃত্বে ষোড়শ অর্থ কমিশন এই রিপোর্ট তৈরি করেছে ২০২৩-২৪-এর অর্থবর্ষের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে। পশ্চিমবঙ্গের বাজেট নথি বলছে, তার পরেও এই ছবি বদলায়নি। ২০২৪-২৫-এ বাংলার রাজস্ব আয়ের ৪৭ শতাংশ এসেছিল কেন্দ্রের থেকে। ২০২৫-২৬-এ রাজ্যের রাজস্ব আয়ে কেন্দ্রের অবদান ৫২ শতাংশ। এ বারের বাজেট অনুযায়ী, আগামী অর্থ বছর বা ২০২৬-২৭-এ রাজস্ব আয়ের ৫৬ শতাংশ কেন্দ্রের থেকে মিলবে বলে অঙ্ক কষা হয়েছে। রাজ্যের মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১.১৭ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় করের ভাগ। ৪৭ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অনুদান। বাকি ১.২৪ লক্ষ কোটি টাকা রাজ্যের নিজস্ব আয়। নবান্নের যুক্তি, জিএসটি চালুর পরে রাজ্যের আর্থিক স্বাধীনতা চলে গিয়েছে। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে তৈরি জিএসটি পরিষদে করের হার ঠিক হয়। অর্থ কমিশনকে এই সমস্যার কথা জানানোও হয়েছিল। কমিশনের রিপোর্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও কর্নাটক, কেরল,তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানাও অভিযোগ জানিয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mamata Banerjee PM Narendra Modi West Bengal government Central Government Nabanna

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy