এ সপ্তাহের শেষে মহিলা সংরক্ষণ আইনে সংশোধনী আনার কথা ভাবছেন নরেন্দ্র মোদী সরকার। চলতি সপ্তাহের শনি ও রবিবার সংসদীয় অধিবেশন চালু থাকবে বলে আগেই জানিয়ে রেখেছিল সরকার। সূত্রের মতে, ওই দু’দিনে আলোচনার শেষে সংবিধানসংশোধন বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যেহেতু বিলটি সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত এবং সরকারের কাছে বিলটি পাশ করানোর প্রশ্নে যথেষ্ট সাংসদ নেই, তাই ছোট ছোট দলগুলির সমর্থন নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছেনবিজেপি নেতৃত্ব।
আড়াই বছর আগে, লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বা মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করে মোদী সরকার। ওই নতুন নিয়মে লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করার বন্দোবস্ত থাকলেও, তা এত দিন কার্যকর করা যায়নি। কারণ, আইনে বলা ছিল, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই মহিলাদেরজন্য আলাদা করে আসন সংরক্ষিত হবে। সরকারের বক্তব্য, সেই নিয়ম মেনে চলে গেলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর হওয়া সম্ভব ছিল না। তাই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের শর্তে পরিবর্তন এনে ওই রাজ্যগুলির মহিলা ভোটারদের উদ্দেশ্যে সদর্থক বার্তা দিতে চেয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। নতুন যে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তাতে মহিলাদের জন্য আসন বৃদ্ধির বিষয়টি আসন পুনর্বিন্যাস থেকে পৃথক করা হচ্ছে। যার অর্থ, আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে মহিলাদের আসন বৃদ্ধির বিষয়টির সম্পর্ক থাকবে না
সূত্রের মতে, প্রথমে ঠিক ছিল, ২০২৭ সালে জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হবে। কিন্তু সংশোধনীতে সরকার সেই ধারা প্রত্যাহার করে নিতে চলেছে। পরিবর্তে ২০১১ সালে জনগণনার ভিত্তিতে নতুন করে লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার জন্য ডিলিমিটেশন (পুনর্বিন্যাস) আইনেও প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রয়োজন হবে। নতুন তথা বর্ধিত জনসংখ্যার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের ফলে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি হবে। লোকসভার আসন সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৮১৬ এর কাছাকাছি। যার ৩৩ শতাংশ আসন অর্থাৎ প্রায় ২৭২টির কাছাকাছি আসন সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য।
বিরোধীদের মতে, নির্বাচনের মুখে পশ্চিমবঙ্গের মহিলা ভোটারদের ক্ষমতায়নের বার্তা দিতে তৎপর মোদী সরকার জানিয়েছেন আগামী জুন মাসের মধ্যে আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ কমিশন শুরু করে দেবে। কিন্তু তার জন্য আইনের পাশাপাশি সংবিধানের ৩৬৮(২) অনুচ্ছেদও সংশোধন করতে হবে। কিন্তু মুশকিল হল, তার জন্য বিজেপির কাছে লোকসভা ও রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
তাই বিরোধীদের সমর্থন নিশ্চিত করতে ওয়াইএসআর কংগ্রেস, শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী), এনসিপি (শরদ গোষ্ঠী, বিজেডি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ, কিরেন রিজিজুরা। তবে এ নিয়ে এখনও কংগ্রেস ও তৃণমূলের সঙ্গে কথাই বলেনি শাসক শিবির। আজ তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ‘‘আমাদের কাছে কোনও বৈঠকে যোগ দেওয়ার চিঠি আসেনি। বিভিন্ন ভাবে বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য তলে তলে বার্তা দেওয়া হলেও, আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বৈঠকে ডাকা হয়নি। মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূলের অন্তত নতুন করে কিছু শেখার নেই। আমাদের দলে ইতিমধ্যেই ৩৩ শতাংশের বেশি মহিলা প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।’’
তবে সমস্যা হল বিষয়টির সঙ্গে মহিলাদের স্বার্থ জড়িত থাকায় কংগ্রেস বা তৃণমূল কিংবা অন্য বিরোধীদের পক্ষে সরাসরি ওই বিলের বিরোধিতা যে করা কঠিন তা বুঝেই বিলটি পাশ করাতে মরিয়া শাসক শিবির।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)