E-Paper

ভোটমুখী বাংলাকে বার্তা দিতে দিল্লির দুর্গাপুজোয় মোদী

পশ্চিমবঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মূল হাতিয়ার হতে চলেছে হিন্দুত্ব। মূলত হিন্দু আবেগে ভর করেই রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির।

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৪৬
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফাইল চিত্র।

নয়াদিল্লি, ২৯ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে এগারো বছরে সম্ভবত এই প্রথম বার দিল্লির বাঙালি অধ্যুষিত চিত্তরঞ্জন পার্কের দুর্গা পুজোয় হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সব ঠিক থাকলে, আগামী অষ্টমীর দিন চিত্তরঞ্জন পার্কের কালী মন্দির সোসাইটির পুজোয় সন্ধি পুজোর পরে হাজির থেকে মায়ের আরাধানা করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটের কথা মাথায় রেখে রাজ্যবাসীকে বার্তা দিতেই মোদীর এই পুজো ভ্রমণ বলে মনে করছেন রাজনীতিকেরা।

পশ্চিমবঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মূল হাতিয়ার হতে চলেছে হিন্দুত্ব। মূলত হিন্দু আবেগে ভর করেই রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির। সেই লক্ষ্য পূরণেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে বাঙালি ভোটারদের কাছে পৌঁছতে ব্যবহার করার কৌশল নিয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। অতীতের মতো এ বারও পশ্চিমবঙ্গে এসে পুজোর উদ্বোধন করে গিয়েছেন অমিত শাহ। কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে বাঙালি অধ্যুষিত চিত্তরঞ্জন পার্কে পুজোয় অংশ নিচ্ছেন, এমনটা অতীতে হয়নি। স্বভাবতই অষ্টমীর সন্ধ্যায় মোদীর চিত্তরঞ্জন পার্কে আগমন তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনীতিকদের মতে, এর ফলে সামগ্রিক ভাবে চিত্তরঞ্জন পার্ক বা দিল্লির বাঙালিদের শুধু নয়, রাজ্যের ভোটারদের কাছেও বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে। যা দলকে ভোটের বাক্সে ফায়দা দেবেই বলে মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

যদিও তৃণমূল শিবিরের মতে, গোটা উদ্যোগটাই রাজনীতিক। তা না হলে ভোটের বছরের ঠিক আগে কেন মোদী পুজো মন্ডপে যাবেন? এত দিন তো তিনি যাননি! পাল্টা রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘সব কিছুর মধ্যে রাজনীতি খোঁজা দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছু নয়। রাজ্যের মানুষ জানেন, নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগেই দুর্গা পুজো ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সম্মান পায়। ভারতের সাংস্কৃতিক বহমানতার সঙ্গে বিজেপি সম্পূক্ত। এর সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া গোটা দেশ জানে, এই দুর্গা পুজোর সময়ে প্রধানমন্ত্রী ন’দিন উপবাসে থেকে মায়ের পুজো করেন। তিনি যদি সেই মায়ের পুজোয় অংশ নেন, তা হলে অবাক হওয়ার তো কিছু নেই।’’

এ যাত্রায় দুর্গা পুজোকে হাতিয়ার করে বাঙালি সমাজকে বার্তা দিতে গোড়া থেকে তৎপর হয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। দিল্লিতে বারোশো ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলিকে সমস্ত ধরনের অনুমতি দেওয়ার জন্য এক জানলা ব্যবস্থা করা, পুলিশি জুলুম ঠেকানোর মতো নানাবিধ ব্যবস্থা নেয় দিল্লির বিজেপি সরকার। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিভিন্ন বিজেপি নেতাদের উড়িয়ে আনা হয় দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে। যাঁরা নিয়মিত ভিত্তিতে বিভিন্ন পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। খোঁজ নিচ্ছেন পুজো কমিটিগুলির কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে।

প্রথমে ঠিক ছিল, আজ ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দুর্গা প্রতিমা উদ্বোধনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু মন্দিরে প্রবেশের পথ উঁচুনিচু হওয়ায়, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি সফর বাতিল করে দেয়। পরে মন্দির কমিটির সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে ঠিক হয়েছে, অষ্টমীর সন্ধ্যায় সন্ধিপুজোর পরে উপস্থিত হবেন প্রধানমন্ত্রী। চিত্তরঞ্জন কালী মন্দির সোসাইটি পুজো কমিটির কর্মকর্তা প্রদীপ সমাদ্দার বলেন, ‘‘শুনেছি প্রধানমন্ত্রী অষ্টমীর সন্ধ্যায় আসবেন। সেই জন্য আগামিকাল রাত থেকেই মন্দির সংলগ্ন যত দোকান রয়েছে, তা বন্ধ রাখার ফরমান এসেছে। কোথাও কোনও আগুন জ্বালানো যাবে না। দুপুরের পর থেকেই মন্দির এসপিজি দখল নিয়ে নেবে বলে শুনেছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Narendra Modi Delhi

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy