পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে দেশ জুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়ছে অনলাইন কেনাকাটাতেও। জনপ্রিয় অনলাইন বাণিজ্যিক মাধ্যমগুলি জানাচ্ছে, গত কয়েক সপ্তাহে তাদের ওয়েবসাইট থেকে তৈরি খাবার, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য কেনার ঝোঁক বেড়েছে। বিশেষ একটি সংস্থার ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি প্রায় ১৫ শতাংশ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খাদ্য মজুত করার প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।
প্যাকেটজাত খাবারের মধ্যে বিভিন্ন স্ন্যাক্স, বিস্কুট, চানাচুর যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সঙ্গে সঙ্গে তৈরি করা যায় এমন নুডল্সও। গ্যাস কম খরচ হয়, এমন খাবার প্রচুর পরিমাণে অর্ডার করছেন ক্রেতারা। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের খাবার অর্ডার করার ঝোঁক কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। কলকাতা, হায়দরাবাদ, চেন্নাইয়ের মতো মেট্রো শহর থেকে শুরু করে মফঃসলেও একই ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনপ্রিয় সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘গত কয়েক সপ্তাহে আমরা সুবিধাজনক, তৈরি খাবারের চাহিদা বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পেতে দেখছি। সঙ্গে সঙ্গে তৈরি করা যায় এমন নুডল্স, প্যাকেটজাত খাবার, স্ন্যাক্স আর বোতলজাত পানীয়ের অর্ডার বেড়েছে ১৫ শতাংশ। খাবার মজুত করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।’’ দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে এই প্রবণতা বেশি। চাহিদা বেড়েছে খাদ্যশস্য, তেল, পানীয়, শুকনো খাবার এবং বাদামজাতীয় পণ্যের। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রির ধরনেও প্রয়োজনীয় বদল করছে বিভিন্ন সংস্থা।
কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক বার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি পণ্য মজুত রয়েছে। এলপিজি পরিস্থিতি কিছুটা উদ্বেগজনক। কারণ, এখনও সিলিন্ডারের ডিলারদের কাছে লম্বা লাইন পড়ছে। গ্রাহকদের অনলাইন বুকিংয়ের পর কিছুটা অপেক্ষা করার অনুরোধ করছে সরকার। নির্দিষ্ট সময়েই বা়ড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে যাবে। অনলাইন বুকিং আগের চেয়ে বেড়েছে। ভারত পশ্চিম এশিয়ার হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে তাতে ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে মজুতে এখনও টান পড়েনি বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।