দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা কমছে। কমেছে মৃত্যুহারও। তবে করোনাকে পুরোপুরি হারাতে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। শীত আসছে। ঋতুবদলের সময় কম-বেশি শরীর খারাপ অনেকেরই হয়। তবু করোনার সামান্য লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। পরীক্ষা করান। রিপোর্ট হাতে না-পাওয়া পর্যন্ত অন্যদের থেকে আলাদা থাকুন। অল্প জ্বর, সর্দি-কাশির মতো সামান্য উপসর্গেও এখন করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ সাংবাদিক বৈঠকে এই বার্তাই দিলেন।
কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর— গত এক মাসে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। অথচ কিছু দিন আগে এই রাজ্যগুলিতেই সংক্রমণের হার ছিল সবচেয়ে বেশি। অন্য দিকে ওই সময়ে কেরল, দিল্লি, মণিপুর ও পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের হার বেড়েছে।
স্বাস্থ্যসচিব জানান, সার্বিক ভাবে গত সাত সপ্তাহ ধরে আক্রান্ত ও মৃতের দৈনিক হার নিম্নমুখী। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে সংক্রমণের দৈনিক গড় ছিল ৯০,৩৬৪। সেটাই ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫,৮৮৪-তে। ওই একই সময়ে মৃতের দৈনিক গড় ১১৬৫ থেকে কমে হয়েছে ৫১৩। এখনও পর্যন্ত ১১ কোটির বেশি পরীক্ষা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্থিতিশীল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ফের হল ডায়ালিসিস
তবু দেশবাসীর একটা বড় অংশের এখনও সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন নীতি আয়োগের সদস্য, দেশের করোনা টাস্ক ফোর্সের অন্যতম ভি কে পল। তিনি বলেন, ‘‘ভাইরাসের চরিত্র সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু আমরা জানি না। তাই সতর্ক থাকতে হবে। কোভিডের সামান্যতম লক্ষণ দেখা দিলেও পরীক্ষা করান। সংক্রমণ যেমন হচ্ছে, তেমনই প্রচুর মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছেন।’’ তিনি বলেছেন, ‘‘এই সময় সামান্য জ্বর বা সর্দি-কাশিও করোনার উপসর্গ হতে পারে। ঋতুবদলের সময়ে অন্য জ্বরও হচ্ছে। কিন্তু আমরা যদি একটাও পজ়িটিভ কেস চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হই, সেখান থেকে আরও হাজারটা নতুন সংক্রমণ ছড়াতে পারে।’’
আরও পড়ুন: দৈনিক আক্রান্তের চেয়ে বেশি দৈনিক সুস্থ, সুস্থতার হারে নতুন রেকর্ড
করোনা রোগীদের জন্য যে কোনও রকম বায়ুদূষণই মারাত্মক ক্ষতিকর। আতসবাজি পোড়ানো বন্ধ রাখতে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজস্থান-সহ বিভিন্ন রাজ্য। পাশাপাশি দূষণের অন্যান্য উৎস নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দিতে বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ফসলের গোড়া পোড়ানোর ধোঁয়ায় প্রতি বছর দিল্লি-সহ উত্তর ভারতে বায়ু দূষণের হার মারাত্মক বেড়ে যায়। এ বছর তা নিয়ন্ত্রণ করতে না-পারলে কোভিড-পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।