অপারেশন সিঁদুর-পরবর্তী সংঘর্ষবিরতির দিন, অর্থাৎ ১০ মে, ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তিন উচ্চপদস্থ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজ়ি ওয়াইলস এবং আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। এ কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লির নিয়োগ করা আমেরিকার একটি লবি সংস্থা।
ফরেন এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট (ফারা) অনুযায়ী, যে বাধ্যতামূলক রিপোর্ট পেশ করেছে এসএইচ ডব্লিউ পার্টনার্স এলএলসি সংস্থাটি (যার শীর্ষে ট্রাম্পের প্রাক্তন পরামর্শদাতা জেসন মিলার) তাতে বলা হচ্ছে, অপারেশন সিঁদুর-পরবর্তী সংঘর্ষবিরতির দিন তো বটেই, গোটা পঁচিশ সাল জুড়েই আমেরিকার বিভিন্ন কর্তার সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের কোথায় কতবার বৈঠক করিয়েছে তারা।
বাণিজ্য চুক্তিকে বাস্তবায়িত করতেই যে এই লবি সংস্থাকে ভাড়া করা হয়েছিল, তা নিয়ে কোনও প্রশ্নের অবকাশ নেই। কিন্তু ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করা নিয়ে প্রায় ৬০ বার বিভিন্ন মঞ্চে দাবি তুলেছেন ট্রাম্প। গত নভেম্বরে, হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত ‘আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’ সংক্রান্ত ৩৩ পাতার নথিতেও একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের মধ্যস্থতাতেই ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি সম্ভব হয়েছিল। ভারত অবশ্যতা সাধ্যমতো খারিজ করে এসেছে। আজকের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরে বিষয়টি নিয়ে ফের বিতর্ক তৈরি হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেল বিরোধী দল কংগ্রেস। ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতিতে ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে কোনও উল্লেখ ওই রিপোর্টে নেই।
আজ কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, “অবশ্যই মে মাসের দশ তারিখে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। আর সে কারণেই আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো অপারেশন সিঁদুর বিকেল ৫.৩৭-এই ঘোষণা করে দেন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)