আমেরিকা এবং ইরানকে এক টেবিলে বসিয়েছিল পাকিস্তান। যদিও সে বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। এ বার ব্রিকস-এর ছাতার তলায় ওই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর দুই নতুন সদস্য ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তাদের মুখোমুখি বসানোর চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। প্রস্তাবিত বৈঠকের উদ্দেশ্য, পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি বন্ধের জন্য সূত্র সন্ধান। যদি এই বৈঠক সম্ভব হয়, তা হলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে এই প্রথম এই দু’পক্ষ মুখোমুখি বসবে।
এটা ঘটনা যে, বৈঠক শুধু মাত্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইরানের মধ্যেই হবে না। আগামী মাসে ব্রিকস-এর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক বসার কথা রয়েছে নয়াদিল্লিতে। এই বৈঠকটি হবে তার পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কূটনৈতিক কর্তাদের মধ্যে। আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে থাকবে পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন বিষয়। প্যালেস্টাইন, সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবাননের চলতি পরিস্থিতি নিয়েও কথা হবে। তবে নজর থাকবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির উপর তার প্রভাব নিয়ে।
এর আগে চেষ্টা করা হলেও ব্রিকস-এর পক্ষ থেকে কোনও যুদ্ধ বিরোধী বিবৃতি জারি করা সম্ভব হয়নি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইরানের সংঘাতের কারণে। ব্রিকস-এর অন্য সদস্য সৌদি আরবও বাগড়া দিয়েছিল যৌথ বিবৃতি প্রকাশে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ভারতের কৌশলগত মিত্র এবং ব্রিকস-এর সদস্য মিশর আসন্ন বৈঠকগুলি সুষ্ঠুভাবে করার জন্য নয়াদিল্লির পাশে রয়েছে।
ইরান বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভারতের উপর চাপ তৈরি করছে ব্রিকস-এর সভাপতি রাষ্ট্র হিসাবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের এক তরফা হামলার নিন্দা করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে। সদস্য রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদ মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়ার পর ভারতেরও গতি বেড়েছে এ ব্যাপারে সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার। সম্প্রতি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আমিরশাহি সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে সে দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করা হচ্ছে, ব্রিকস এর সূচনাকালীন সদস্য এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র রাশিয়া এ ব্যাপারে ভারতের পাশেই থাকবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)