নতুন বছরের গোড়াতেই তিন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভোট। নয়াদিল্লির প্রতিবেশী কূটনীতি ছাব্বিশে কেমন যাবে তা অনেকটাই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং নেপালের নির্বাচনের ফলাফলের উপর। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই তিন রাষ্ট্রে নির্বাচন হবে।
বাংলাদেশ এবং নেপালের ভোটের দিকে সতর্ক নজর রাখছে সাউথ ব্লক, কেননা ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে এই দুই দেশের পরিস্থিতি। আবার এই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশে ইসলামিক মৌলবাদী ভারত-বিরোধী শক্তির বাড়বাড়ন্তের জন্য উদ্বেগঅনেকটাই বেশি।
নেপালের ক্ষেত্রে ভারত আশা করছে, রাজনৈতিক স্থিরতা ফিরে আসবে এবং পূর্বতন সরকারগুলির ভুল পদক্ষেপের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারবে সেই দেশ। গত সেপ্টেম্বরের গোড়ায় জেন জ়ি-র দু’দিনের আন্দোলনে কেঁপে গিয়েছিল নেপাল, মার্চ মাসে আসন্ন নির্বাচনে মূলস্রোতের দলগুলি তাদের ভুল শুধরে নেবে, এমনটাই মনে করছে নয়াদিল্লি। ভারত-বিরোধী ভাষ্য সে দেশে তৈরি হলেও তাকে সামলে নিতে পারা গিয়েছিল গোড়াতেই। নতুন সরকার এলে শক্তি ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বাড়বে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির বিনিয়োগের সুযোগও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। নয়াদিল্লির এ ক্ষেত্রে কৌশল, কূটনৈতিক দৌত্যকে পাশে সরিয়ে রেখে সেখানকার নতুন উঠে আসা নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং বিনিময় বাড়ানো।
ভারতের প্রতিবেশী নীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জটি এই মুহূর্তে অবশ্যই বাংলাদেশ। ১২ ফেব্রুয়ারি সে দেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। বাংলাদেশে চলছে হিংসা এবং ভারত-বিরোধী ভাষ্য। ভোটের পরে সে দেশে ভারত-বিরোধিতা যাতে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্বাভাবিকতা ফেরে তার জন্য নিশিলন্ঠনের বাড়তি সলতে পোড়াচ্ছেন ভারতীয় কূটনীতিকেরা। গত দেড় বছরের অন্তর্বর্তিকালীন সরকারে মদত ছিল কট্টর ইসলামিক সংগঠনগুলির, যার মধ্যে অন্যতম জামায়েতে ইসলামী। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে গত ১৫ বছরে যা যা অর্জন করা গিয়েছিল, বলা চলে, তা ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিএনপি-র দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে ভারত। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশে যে কট্টর ইসলামের হাওয়া চলছে তাকে নিয়ন্ত্রণ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সুস্থির করা কতটা সম্ভব হবে, সেটাই এ বছর সাউথ ব্লকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্য দিকে, সামরিক অভ্যুত্থানের চার বছর পরে সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে মায়ানমারে। তিন দফায় হওয়া নির্বাচন শেষ হবে ২৫ জানুয়ারি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ বার ক্ষমতায় আসবে মায়ানমারের সেনা-সমর্থিত দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)’। দেশের বেশ কয়েক জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা দলের নেতা। ইউএসডিপি ক্ষমতায় এলে এক প্রকারের সামরিক শাসনই বজায় থাকবে দেশে, মনে করছেন কূটনীতিকেরা। মায়নামারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া ভারতের নিরাপত্তার সঙ্গে সেখানকার ভোট এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসার সরাসরি সংযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)