খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপতবন্ত সিং পন্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মার্কিন আদালতে স্বীকার করেছেন ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্ত। তাঁর স্বীকারোক্তির পরই আদালত নিখিলকে দোষী সাব্যস্ত করে। কেন তিনি স্বীকার করলেন? নিখিলের পরিবারের এক ঘনিষ্ঠকে উদ্ধৃত করে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, ‘দীর্ঘ দিনের ক্লান্তিকর’ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটাতেই এই পদক্ষেপ!
নিখিলের দোষ স্বীকার করার বিষয়টি আইনজীবী মারফত জানতে পারেন তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। ওই সূত্র ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে বলেন, ‘‘নিখিলের সঙ্গে তাঁর পরিবারও বহু দিন ধরে আইনি লড়াই করছে। নিখিল বুঝতে পেরেছিলেন, সেটা তাঁর পরিবারের উপর কতটা প্রভাব ফেলছে। তাই এই আইনি লড়াই বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। নিখিল রাজসাক্ষী হননি। সব দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়েছেন।’’
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সাজাঘোষণা স্থগিত রেখেছে আদালত। মার্কিন আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে নিখিলের। সেই খবর জানতে পেরে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা এবং স্ত্রী। ওই সূত্র বলেন, ‘‘এই বিষয়টা মেনে নেওয়া তাঁদের পক্ষে আরও কঠিন।’’
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে ওই সূত্র জানিয়েছেন, আদালতে দোষ স্বীকার করার কয়েক দিন আগেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন নিখিল। কিন্তু তখন তাঁদের বুঝতে দেননি আগামী দিনে এমন বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন।
আরও পড়ুন:
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক খলিস্তানি নেতা পন্নুনকে ২০২৩ সালে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ষড়যন্ত্রে ধরা পড়েন নিখিল। ওই বছরের জুন মাসে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে মার্কিন তদন্তকারীরা নিখিলকে গ্রেফতার করেন এবং আমেরিকায় নিয়ে যান। নিখিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনটি। খুনের ষড়যন্ত্র। খুনি ভাড়া করা। সেই ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে অবৈধ পথে বা বেআইনি ভাবে আর্থিক লেনদেনের পরিকল্পনা।
অভিযোগ, ভারত থেকে বিকাশ যাদব নামের এক জন নিখিলকে ওই কাজে নিয়োগ করেছিলেন। বিকাশ ভারতের ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটের কর্মচারী বলে দাবি মার্কিন নথিতে। এই ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটে রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা র-এর দফতরও। অভিযোগ, বিকাশের নির্দেশে নিখিল আমেরিকায় এক ভাড়াটে খুনির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পন্নুনকে হত্যার বরাত দেন। তাঁদের মধ্যে এক লক্ষ ডলারের (৯০ লক্ষ টাকা) চুক্তি হয়েছিল। অগ্রিম দেওয়ার কথা হয়েছিল ১৫ হাজার ডলার (১৩ লক্ষ টাকা)। কিন্তু নিখিল জানতেন না, ভাড়াটে খুনি ভেবে যাঁর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর পরেই নিখিলকে গ্রেফতার করা হয়। আমেরিকার এই অভিযোগগুলি ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে ব্যাখ্যা করেছিল ভারত সরকার।