E-Paper

আর বাড়ি ফিরতে চান না দুই সন্তান হারানো মা বিনিতা

বিনিতার শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে তাঁর দুই সন্তানের মৃত্যুর খবর, তাঁকে দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

‘মামা নুংশি’। মেইতেই ভাষায় যার অর্থ— মা, তোমাকে ভালবাসি!

গত ৭ এপ্রিল রাতে মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠিক এই কথাটাই বলেছিল বছর পাঁচেকের ছোট্ট ওইনাম টমথিন। সেটাই যে আদরের সন্তানের কাছ থেকে শোনা তাঁর শেষ শব্দ হয়ে যাবে, বুঝতে পারেননি ওইনাম বিনিতা। মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার ট্রংলাওবি এলাকায় ভোররাতে বিনিতাদের বাড়ির দেওয়াল ভেদ করে যখন শোওয়ার ঘরে আছড়ে পড়েছিল রকেট, তখন মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছিল টমথিন আর পাঁচ মাসের ওইনাম ইয়াইসানা। রকেটের বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় টমথিন। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, ইয়াইসানার লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ঘটনার পর ছ’দিন পার হলেও, এখনও দোষীরা ধরা না পড়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়।

বিনিতার শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে তাঁর দুই সন্তানের মৃত্যুর খবর, তাঁকে দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রকেট বিস্ফোরণে ক্ষতবিক্ষত শরীরে ইম্ফলের রাজ মেটিসিটি হাসপাতালের শয্যায় শুয়েই স্থানীয় সংবাদপত্র পড়ে টমথিন এবং ইয়াইসানার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন বিনিতা। আর ঠিক সেই দিন থেকেই এক অন্য লড়াই শুরু হয়েছে বিনিতার! শারীরিক ভাবে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও, মানসিক ভাবে কার্যত নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন তিনি। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরলেও, কেউ আর তাঁকে ‘মা’ বলে ডাকবে না— এটাই মেনে নিতে পারছেন না বিনিতা। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না, এই ঘটনার জন্য আদৌ কারও উপর রাগ করা উচিত কি না। পরিবারের সদস্যদের কাছে বারবার অসহায়ের মতো তিনি জানতে চাইছেন, ‘‘ফুলের মতো দু’টো প্রাণ কেড়ে নিয়ে ঠিক কী লাভ হল হানাদারদের?’’ নিরুত্তর প্রিয়জনেরাও!

বিনিতা জানালেন, ঘটনার দিন বিষ্ণুপুরে তাঁদের এলাকায় পাহারা দিচ্ছিলেন বিএসএফ জওয়ানেরা। আর সেই ভরসাতেই নিশ্চিন্তে দুই সন্তানকে পাশে নিয়ে দু’চোখের পাতা এক করেছিলেন তিনি। ঠিক তার পরেই ঘটেছিল আক্রমণের ঘটনা। এ ক্ষেত্রে বিনিতার সব ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে তাঁর স্বামী ওইনাম মঙ্গলসানা এবং তাঁর সহকর্মীদের উপর। মঙ্গলসানা পেশায় বিএসএফ কর্মী। ঘটনায় সময় বিহারে কর্মরত ছিলেন তিনি। বিনিতা বলছিলেন, ‘‘আমার স্বামী দেশের সুরক্ষার জন্য কাজ করেন। ভেবেছিলাম, নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের রক্ষা করবে। কিন্তু তাদের তরফেই জীবনের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হলাম। আমার সন্তানদের বাঁচাতে পারল না ওরা।’’

হামলার পর ছ’দিন পার হলেও, এখনও দোষীদের ধরা যায়নি। ঘটনার প্রতিবাদে ক্রমেই এলাকায় বাড়ছে বিক্ষোভ। চলছে প্রতিবাদ মিছিলও। জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে আশপাশের পাহাড়ে একাধিক বাঙ্কার নষ্ট করা হলেও, দোষীদের এখনও খোঁজপাওয়া যায়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Manipur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy