আগামিকাল থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব। শুরুর দিনেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে লোকসভায়। আসন্ন অধিবেশনে একাধিক বিষয় নিয়ে সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলার পরিকল্পনা করেছেন বিরোধীরা।সূত্রের মতে, ইরান প্রশ্নে ভারতের অবস্থান, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, এসআইআর-এর মতো বিষয়গুলি নিয়ে সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন বিরোধীরা।
স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অধিবেশনের প্রথম পর্বে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের একাংশ। গোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস তাতে সমর্থন না জানালেও দল এখন ঠিক করেছে স্পিকার প্রশ্নে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। লোকসভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, আগামিকাল প্রশ্নোত্তর পর্বের পরেই কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাভেদ ও কে সুরেশের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে লোকসভায়। স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আসায় সেই আসনে ওম বিড়লার পরিবর্তে বিজেপির জগদম্বিকা পালের মতো স্পিকার প্যানেলে থাকা বর্ষীয়ান নেতাকে সভার কাজ পরিচালনা করতে দেখা যাবে।
তবে স্পিকারের আসনে না বসলেও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে শাসক শিবিরের বেঞ্চে বসতে পারবেন বিড়লা।আজ আসন্ন অধিবেশনের রণকৌশল স্থির করতে বৈঠকে বসেন কংগ্রেসের কৌশলগত কমিটির সদস্যেরা। বৈঠকের শেষে কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ বলেন, ‘‘কাল স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আসতে চলেছে। বিরোধীরা বিতর্কে যোগদান করবেন। তবে বিতর্কের জন্য কত সময় বরাদ্দ করা হবে তা এখনও স্থির হয়নি। কেবল বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীই নয়, বিরোধী নেতারা মুখ খোলার সুযোগ পাচ্ছেন না। সে সব বিষয় তুলে ধরবেন বিরোধীরা।’’
স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ স্বাক্ষর করলেও সংখ্যার হিসাবে বিরোধীদের জয় কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। ভোটাভুটির আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই বিজেপি ও কংগ্রেস দু’দলই সাংসদদের লোকসভায় উপস্থিত থাকার জন্য হুইপ জারি করেছে। যদিও ৫৪৩ আসনের লোকসভায় এনডিএ শিবিরের পক্ষে রয়েছে ৩৩৫ জন সাংসদের সমর্থন। অন্য দিকে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে রয়েছেন ২৩০ জন।
আগামিকাল ভোটাভুটির আগে রণকৌশল ঠিক করতে সংসদ শুরু হওয়ার আগে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গের সংসদীয় দফতরে বৈঠকে বসতে চলেছেন বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সাংসদেরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)