কর্মসংস্থানের বিজ্ঞাপন দেখে বুধবার বেসরকারি একটি রফতানি সংস্থায় আবেদন জানিয়েছিলেন জিশান আলি খান। ১৫ মিনিটের মাথায় ওই সংস্থার তরফে জবাব পেয়ে প্রথমে একটু বিস্মিতই হয়েছিলেন। কিন্তু, মেলটি খুলতেই দেখেন চাকরি তো দূর অস্ত, তাঁর পাঠানো আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ওই সংস্থা। কারণ? জিশানের দাবি, সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা শুধু অ-মুসলিম প্রার্থীকেই চাকরি দেয়।
এর পর সংস্থার ওই জবাবের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়েছিলেন ওই যুবক। বিষয়টি জানাজানি হতেই দেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভাল নম্বর পেয়ে স্নাতকস্তরে ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পাশ করা এক ছাত্রকে শুধুমাত্র মুসলিম বলে চাকরি কেন দেওয়া হল না, সেই প্রশ্ন তুলে সংখ্যালঘু জাতীয় কমিশনেও একটি আবেদন করেছেন তিনি। তার ভিত্তিতে ওই সংস্থার কাছ থেকে জবাব তলব করেছে কমিশন। এমন কেন হল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস। মুম্বই পুলিশও ইতিমধ্যে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই রফতানি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।
সংখ্যালঘু জাতীয় কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিম আহমেদ এ দিন বলেন, ‘‘বিষয়টি সত্যি হলে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এর তদন্ত হওয়া উচিত।’’ সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আব্বাস নকভিও বলেন, ‘‘ধর্মের জন্য ওই যুবকের আবেদন খারিজ করে দেওয়াটা আদপেই ঠিক হয়নি।’’
ওই যুবক সংবাদ সংস্থাকে জানান, ভাল কোথাও কাজ করবেন বলেই ওই রফতানি সংস্থায় আবেদন জানিয়েছিলেন। তাতে যে ধর্ম বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, ভাবতে পারেননি তিনি। তাঁর অভিযোগ, জিশানের দাবি, সংস্থার মেলে লেখা ছিল, ‘আবেদন পাঠানোর ধন্য ধন্যবাদ। তবে, আমরা মুসলিম কর্মী নেব না। অ-মুসলিম প্রার্থীরাই নিয়োগের আবেদন জানাতে পারবেন।’ ক্ষুব্ধ ওই যুবকের কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রী যেখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অগ্রগতির বার্তা দিচ্ছেন, সেখানে দেশের এই সব নামী সংস্থাগুলিই ধর্ম ভেদাভেদের জন্য চাকরি দিচ্ছে না।’’ চারদিকে বিতর্কের ঝড় ওঠায় টনক নড়েছে ওই সংস্থাটিরও। বৃহস্পতিবারই ওই যুবককে ফের মেল করে সংস্থাটি জানায়, এক শিক্ষানবিশ কর্মীর ভুলে এই সমস্ত গোলমাল তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, সংস্থায় মুসলিম কর্মীও রয়েছেন।