পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবাল খুনে অভিযুক্ত সিয়া গোয়ল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীর পুরনো একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। নীল জার্সি পরে দু’জনে পাশাপাশি বসে রয়েছেন স্টেডিয়ামে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি, এটি একটি ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন তোলা ছবি। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
তদন্তকারীরা আগেই জানতে পেরেছেন যে, একটি ক্রিকেট ম্যাচের সূত্রে চেতনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল সিয়ার। প্রসঙ্গত, সিয়ার দাদা সাহিলের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন চেতন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সেই সূত্রেই চেতনের সঙ্গে আলাপ। তার পর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়া এবং চেতনের এই ছবি ও কয়েকটি ভিডিয়ো পুলিশের হাতে এসেছে। সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, দুই অভিযুক্তকেও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়া এবং চেতনের এই ছবি কত দিন আগের তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, কেতনের সঙ্গে বাগ্দান অনুষ্ঠানে সপ্তাহখানেক আগেই চেতনের সঙ্গে রাজস্থানের উদয়পুরে গিয়েছিলেন সিয়া। সেখানে পাঁচ দিন কাটিয়ে এসেছেন। জানুয়ারিতে তাঁরা রাজস্থানে গিয়েছিলেন বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর। সিয়ার বাগ্দান হয় ফেব্রুয়ারিতে। কেতন হত্যাকাণ্ড ঘিরে তোলপাড় পুণে। কেতনের জন্য বিচার চেয়ে প্রতিবাদে পথে নেমেছেন তাঁর বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন থেকে এলাকাবাসীরা। সিয়া এবং চেতনের ফাঁসির দাবি জোরালো হচ্ছে।
শনিবার সিয়ার দাদা সাহিল, বাবা এবং মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। শুক্রবার সাহিলকে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সিয়ার বয়ানের সঙ্গে তাঁর বয়ান পরখ করে দেখা হয়। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শুক্রবার সিয়া পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, কেতনকে তাঁর পছন্দ ছিল না। তিনি বিয়েও করতে চাননি। কিন্তু পরিবারের সম্মান বাঁচাতে বিয়েতে সায় দিতে হয়েছিল অনিচ্ছা সত্ত্বেও। তিনি আরও দাবি করেন, কেতনকে বিয়ে করতে পারবেন না, এ কথা বাড়িতে জানানো তাঁর পক্ষে অসম্ভব ছিল। তাই কেতনকে সরিয়ে দেওয়াটাই সহজ কাজ বলে মনে হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন কেতনকে লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন। কিন্তু কেতনকে খুনের আসল উদ্দেশ্য কী, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। যদিও সিয়া নানা রকম দাবি করেছেন। তবে আসল কারণ জানতে সিয়া, চেতন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর।