‘বিষাক্ত’ পানীয় জলের কারণে অন্ধপ্রদেশে মৃত্যু হল এক জনের। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৭০ জন। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ইনদওর এবং খরগোনের পর এ বার অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জল খাওয়ার পরই অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পেটব্যথা, বমি এবং মাথা ঘোরার মতো নানা উপসর্গ দেখা দেয়। একের পর এক বাড়িতে লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় হুলস্থুল পড়ে যায়। তার মধ্যে এক জনের মৃত্যুর খবর আসায় সেই আতঙ্ক বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭০ জন। তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অসুস্থতার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি এলাকায় পৌঁছোন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা। শ্রীকাকুলামের জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক কে অনিতা সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, দাম্মালা ভিড়ি এলাকার ঘটনা। সেখানে পানীয় জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৭০ জন। মৃত্যু হয়েছে এক জনের। ইতিমধ্যেই ওই এলাকার পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। জলের দূষণের কারণেই এই ঘটনা, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এ ছাড়া এলাকায় আর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কি না, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা নদরদারির ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। বাসিন্দাদের শারীরিক পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্তদের ভর্তি করানো হয়েছে। ওই এলাকায় জল সরবরাহ সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে বাসিন্দাদের কাছে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেলা প্রশাসনকে পরিস্থিতির উপর নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা কেমন, খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত মাসে মধ্যপ্রদেশের ইনদওর এবং খরগোন জেলায় দূষিত জল পান করে শতাধিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তার মধ্যে ইনদওরে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা আতঙ্ক বৃদ্ধি করে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন দু’শো জনেরও বেশি বাসিন্দা। ইনদওরের ভগীরথপুরার ঘটনায় জানা যায় যে, জলের পাইপলাইনে ফাটল থাকায় সেখান দিয়ে শৌচাগারের জল মিশে গিয়েছিল। আর তার জেরেই এই দুর্ঘটনা বলে অভিযোগ ওঠে।