E-Paper

যুদ্ধ ঘিরে সরব বিরোধীরা, স্পিকার বিতর্ক আজ

অথচ, ঠিক ছিল, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনার মাধ্যমে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪২
ওম বিড়লা।

ওম বিড়লা।

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তরোত্তর যুদ্ধ পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। বাড়ছে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা। তাই স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে পশ্চিম এশিয়া ও জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি তুলে আজ দিনভর সরব রইলেন বিরোধীরা। রাহুল গান্ধীর মতে, পশ্চিম এশিয়া প্রশ্নে আপস নীতি নেওয়ায় সংসদে ওই বিষয়ে আলোচনা থেকে পালানোর কৌশল নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদীরা। বিরোধীরা হঠাৎউ আলোচনার বিষয়বস্তু পাল্টে ফেলায় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু আজ বলেছেন, তিনি তাঁর জীবনে এ ধরনের ‘অবিবেচক’ বিরোধী দেখেননি। সব ঠিক থাকলে আগামিকাল স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হতে চলেছে লোকসভায়।

অথচ, ঠিক ছিল, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনার মাধ্যমে। তবে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন রাহুলরা। আজ সকালে তাই প্রথমে অন্য সব আলোচনা বাতিল করে কেবল পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে প্রস্তাব জমা দেন একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ। সংসদের মকর দ্বারের সামনে বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভও দেখান ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। সকাল ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে ফের লোকসভায় আলোচনার দাবি জানিয়ে ওয়েলে নেমে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান বিরোধীরা। অধিবেশন মুলতুবি করা হয়।

বেলা বারোটায় অধিবেশন ফের শুরু হলে ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব খারিজ করে দেন বিড়লার অনুপস্থিতিতে স্পিকারের চেয়ারে থাকা জগদম্বিকা পাল। এমআইএম দলের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি পয়েন্ট অব অর্ডার তুলে জানান, প্রস্তাব খারিজ করার অধিকার কেবল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের থাকে। জগদম্বিকা পাল কোনওটিই নন। জগদম্বিকা প্রথমে বলেন, ‘‘খারিজ করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে আমার।’’ বিষয়টি নিয়ে ওয়েইসি ফের প্রশ্ন করলে জগদম্বিকা বলেন, ‘‘স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ওই প্রস্তাবগুলি খারিজ করা হয়েছে।’’ নিজেদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়াকে বিরোধীদের অপরিণত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সময় এক দফা অধিবেশন মুলতুবি হয়, পরে তিনটের সময় ফের অধিবেশন শুরু হয় এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে দিনের মতো তা মুলতুবি করা হয়। রাজ্যসভাতেও এ নিয়ে আলোচনার দাবি উঠলে, তা খারিজ করে দেন চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন।

শাসক শিবিরের বক্তব্য, বিরোধীরা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আলোচনা চেয়েছিলেন। তা মেনে নেওয়া হয়েছিল। পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সরকারের বিবৃতি চেয়েছিলেন বিরোধীরা, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আজ সেই বিবৃতি দিয়েছেন। তারপরেও বিরোধীরা অনড় কেন? কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের বক্তব্য, ‘‘সংসদে মন্ত্রী বিবৃতি দিলে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকে না। তাই আমাদের দাবি বিস্তারিত আলোচনা। যাতে সরকারকে প্রশ্ন করা সম্ভব হয়।’’ আর রাহুলের কথায়, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে, তার প্রভাব পেট্রোপণ্যের দাম তথা ভারতের অর্থনীতির উপর এসে পড়তে চলেছে। এর সঙ্গে জনতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই দল এ নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবিতে সরব হলেও, সরকার আলোচনায় রাজি নয়। নরেন্দ্র মোদী ব্ল্যাকমেলের শিকার, তাই সংসদ থেকেপালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Om Birla Iran Israel Conflict

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy