মুখে এক। কাজে আর এক। আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত সামাজিক ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভারত সকলের জন্য। জাত, ভাষা ও ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তিনি। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি-আরএসএসের জমানায় ঠিক তার উল্টো ঘটনা ঘটছে। বিজেপি শাসিত রাজ্য ত্রিপুরার ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমাকে বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডে চিনা বলে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। ছত্তীসগঢ়ের দলিত ব্যক্তি রামনারায়ণ বঘেলকে কেরলে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। বড় দিনে খ্রিস্টানদের উপরে চড়াও হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি।
বিদায়ী বছরের শেষ দিনে বুধবার মোহন ভাগবত রায়পুরে বলেছেন, এই দেশ সকলের। এই ভাবনাটাই আসল সামাজিক সম্প্রীতি। মানুষকে তাঁর জাত, আর্থিক অবস্থা, ভাষা ও জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। এই ভাবনাই সামাজিক ঐক্যের পথ। রায়পুরের ‘হিন্দু সম্মেলন’-এ তিনি হিন্দুদের ঐক্যের কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশের মতো ঘটনা সম্ভব নয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, আরএসএস-প্রধানের একমাত্র লক্ষ্য হল ভারতকে হিন্দু-রাষ্ট্র বানানো। তিনি মুখে ঐক্যের কথা বললেও বাস্তবে মোদী জমানায় ভাষা, ধর্মের ভিত্তিতে বিদ্বেষমূলক হিংসা বেড়েই চলেছে।
গত সপ্তাহেই ত্রিপুরার ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমা দেহরাদূনে গণপিটুনি ও ছুরি হামলার শিকার হয়ে ১৭ দিন হাসপাতালে থাকার পরে মারা গিয়েছেন। তাঁকে চিনা সন্দেহে মারধর করা হয়েছিল। তার পরে নতুন করে মোদী জমানায় বিদ্বেষমূলক হিংসার অভিযোগ উঠেছে। ভাগবত বুধবার বলেছেন, ‘‘সম্প্রীতির পথে প্রথম ধাপ হল বৈষম্যের ভাবনা মন থেকে দূর করা। সবাইকে নিজের ভাবা।’’ বিজেপি-শাসিত উত্তরাখণ্ডে আর এক বিজেপি-শাসিত ত্রিপুরার জনজাতি ছাত্র অ্যাঞ্জেলের খুনের ঘটনার পরে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ সামালে ত্রিপুরায় প্রতিনিধি পাঠালো বিজেপি। বৃহস্পতিবার আগরতলা পৌঁছন উত্তরাখণ্ডের বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপির জাতীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য তরুণ বিজয়। আগামিকাল অ্যাঞ্জেল চাকমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের দেখা করার কথা রয়েছে।
কংগ্রেসের লোকসভার উপদলনেতা গৌরব গগৈ বলেন, ‘‘আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর অনুগামীরা শুধুমাত্র ভারতের বৈচিত্র্যর উদ্যাপনের সংস্কৃতি বদলে একটিমাত্র পরিচিতির দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন। তাই বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার ছাত্রের উপরে বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডে হামলা হলে এফআইআর দায়ের হতেও দেরি হয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাই আরও গভীর পদক্ষেপ করতে হবে। তাঁদের প্রভাব দেশের মানুষের মনের উপরে সবথেকে বেশি। তাঁদের সেই অনুযায়ী দায়িত্ব নিতে হবে।’’
আরএসএস-প্রধান সামাজিক ঐক্যের কথা বললেও কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বড়দিনের সময়ে খ্রিস্টানদের উপরে হামলা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এক খ্রিস্টান যাজককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজেপি এই ঘৃণার মনোভাব তৈরি করছে। ফলে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে সংখ্যালঘুদের বসবাস করাই কঠিন হয়ে উঠছে। এ নিয়ে বেণুগোপাল মোদীকে চিঠি লিখেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)