ইনদওরের রঘুবংশী পরিবারে খুশির হাওয়া। নবজাতককে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে পরিবার। গত বছরে এই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল ছোট ছেলে রাজার মৃত্যুতে। প্রসঙ্গত, মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে মেঘালয়ে স্ত্রী সোনম এবং তাঁর প্রেমিকের হাতে খুন হতে হয়েছিল রাজাকে। সেই ঘটনায় এখন জেলবন্দি রঘুবংশী পরিবারের পুত্রবধূ তথা রাজার স্ত্রী সোনম। এ বার সেই পরিবারেরই বড় ছেলে সচিনের স্ত্রী জন্ম দিলেন পুত্রসন্তানের। আর সেই পুত্রসন্তানকে ঘিরেই এখন খুশির জোয়ার রঘুবংশী পরিবারে।
রাজার মা উমা রঘুবংশী বলেন, ‘‘ও আমাদের রাজা। আমার রাজা আবার ফিরে এসেছে।’’ এ কথা বলতে বলতে কেঁদেও ফেলেন তিনি। নবজাতকের নাম দেওয়া হয়েছে রাজা। পরিবারের বিশ্বাস, রাজাকে খুন হতে হয়েছিল ‘একদশী’র দিন। সেই ‘একাদশী’তেই রঘুবংশী পরিবারের বড় বৌ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। আর তা থেকেই পরিবারের সকলের ধারণা, রাজার ‘পুনর্জন্ম’ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে রাজা রঘুবংশীর বিয়ে হয়েছিল সোনমের সঙ্গে। ইনদওরের ব্যবসায়ী ছিলেন রাজা। বিয়ের পর ২১ মে স্ত্রী সোনমের সঙ্গে মেঘালয়ের সোহরাতে মধুচন্দ্রিমায় যান। ২৬ মে নবদম্পতি নিখোঁজ হয়ে যান। দু’জনের খোঁজে রাজ্য পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নামানো হয়। ছ’দিন ধরে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়। ২ জুন সোহরার কাছেই ওয়েই সডং জলপ্রপাতের কাছে রাজার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। তার পর সোনমের হদিস মেলে ইনওদরেই। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সোনম এবং তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা-সহ কয়েক জন রাজাকে খুন করে খাদে ফেলে দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সোনম এবং তাঁর প্রেমিক রাজ। তাঁরা দু’জনেই এখন জেলবন্দি।