পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে পঞ্জাব এবং হরিয়ানা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পঞ্জাবের পঠানকোট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বছর পনেরোর এক কিশোরকে। পুলিশ সূত্রের খবর, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর এক হ্যান্ডলারের সঙ্গে ওই কিশোরের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গত এক বছর ধরে এই যোগাযোগ চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
রাজ্য গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ওই পাক হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত কিশোর। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কী কী তথ্য পাচার করা হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ, সেনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করা হয়েছে। পহেলগাওঁয়ে হামলার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, ওই সময়ে কোনও তথ্য পাচার করা হয়েছিল কি না তা-ও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। পঞ্জাবে আইএসআই চক্র সক্রিয় হয়েছে, এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য জুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গোয়েন্দাদের একটি সূত্র বলছে, মূলত কিশোর এবং কিশোরীদেরই বেছে বেছে চরবৃত্তির কাজে লাগাচ্ছে আইএসআই। পঠানকোট থেকে ধৃত কিশোরের ঘটনা থেকে তেমনই সন্দেহ বাড়ছে। তাঁদের দাবি, ক্রমাগত কৌশল বদলাচ্ছে পাক গুপ্তচর সংস্থা। শিশু এবং কিশোরদের চরবৃত্তির কাজে লাগালে কেউ সন্দেহ করবে না। আর সেই সুযোগকে ব্যবহার করছে তারা। যা দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
অন্য দিকে, হরিয়ানার অম্বালায় যৌনতার ফাঁদে পড়ে সেনা এবং বায়ুসেনার তথ্য পাচারে আরও এক জনকে গ্রেফতার করেছে সে রাজ্যের পুলিশ। ধৃতের নাম সুনীল। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ছয়-সাত মাস ধরে সমাজমাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে কথোপকথন চলছিল তাঁর। সুনীলকে যৌনতার ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করেন ওই মহিলা। তাঁর কাছ থেকে বায়ুসেনা এবং সেনার তথ্য সংগ্রহ করেন। সুনীল একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। সেই সংস্থাটি বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করে। সুনীলকে কাজে লাগিয়ে যৌনতার টোপ দিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুয়ো প্রোফাইল বানিয়ে সুমীলের সঙ্গে আলাপচারিতার পর পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে বলে সন্দেহ।