পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সঙ্গে বিহারের অরারিয়ায় একটি আলোচনাসভায় বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘‘জনবিন্যাস বদলের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য থেকে আমরা প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে তাড়াব।’’ শাহের ওই মন্তব্যের পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল।
পশ্চিমবঙ্গের মতোই উত্তরবঙ্গ লাগোয়া বিহারের সীমাঞ্চল এলাকার কাটিহার, পূর্ণিয়া, কিসনগঞ্জ, অরারিয়ার মতো জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে গত কয়েক বছর ধরেই অভিযোগ তুলছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘সশস্ত্র সীমা বল’ (এসএসবি)-র নতুন পরিকাঠামো উদ্বোধন করতে গিয়ে শাহ বলেন, ‘‘বিজেপি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হল দেশ থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বার করে দেওয়া। তাঁরা শুধু জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনকই নয়, ভারতীয় জনগণের জন্য কল্যাণমূলক সুবিধাগুলিরও অবৈধ গ্রাহক। এর ফলে সরকার পরিচালিত প্রকল্পগুলির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হয়ে পড়ে।’’
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বড় আকারে অনুপ্রবেশের ফলেও দখলদারির ঘটনা বাড়ে বলেও অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের ডেরাগুলি চিহ্নিত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘এগুলি ধ্বংস করতে আমরা বদ্ধপরিকর। অনুপ্রবেশ জনবিন্যাস পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি করে, যা একটি অঞ্চলের সংস্কৃতি এবং এমনকি ভূগোলকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ’ অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’ বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ জনবিন্যাস পরিবর্তনের ফলে ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য’ বলে দাবি করে শাহ বলেন, ‘‘শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, নির্বাচনে বিজেপি জিতবে। আর অনুপ্রবেশকারীদের বার করে দেওয়া বিজেপি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’’
অনুপ্রবেশকারী বিতাড়নের উদ্যোগ নীতীশ কুমারের রাজ্য থেকে শুরু হবে বলেও বৃহস্পতিবার সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের সূচনা হবে বিহারের এই সীমাঞ্চল অঞ্চল থেকে। কয়েক মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময় আমি এখানে চার দিন থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। এনডিএ-কে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেওয়ার জন্য আমি বিহারের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই।’’ প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোট ঘোষণার ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বিহারের সীমাঞ্চল এলাকায় অনুপ্রবেশ, তার কারণে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও অবৈধ ধর্মস্থানের কাঠামো নির্মাণের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই উদ্দেশ্যেই বৃহস্পতিবার তিন দিনের জন্য বিহারে পৌঁছেছেন শাহ। তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিতি থাকায় ওই সম্মেলনটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এ বার বিজেপির প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ। সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে প্রবেশ করা বাংলাদেশিরা কী ভাবে জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে, নানা ‘তথ্যপ্রমাণ’ দিয়ে বৃহস্পতিবার তা তুলে ধরা হয় ওই আলোচনাসভায়।
শাহের ওই মন্তব্যের পরেই জবাব এসেছে তৃণমূলের তরফে। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে লেখা হয়েছে— ‘‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনি কি নিশ্চিত। গতবার আপনার দলের সাংসদ জগন্নাথ সরকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তের বেড়া সরিয়ে দেওয়া হবে। শুধু কোনও পদক্ষেপ না করাই নয়, আপনার বা আপনার দলের পক্ষ থেকে একটিও তাঁকে একটি শো-কজ নোটিসও দেওয়া হয়নি।’’ সেই সঙ্গে শাহের অনুপ্রবেশকারী বিতাড়নের অঙ্গীকারকে ‘ভোটের জুমলা’ বলে চিহ্নিত করে লেখা হয়েছে, ‘‘আপনি দাবি করেছেন যে বিদেশিদের ‘শনাক্ত করা, নাম বাদ দেওয়া এবং বিতাড়নের’ জন্য এসআইআর অপরিহার্য ছিল। তা হলে কেন এই মহড়া শুধুমাত্র বাংলায় হয়েছে? বিজেপি বা তার সহযোগীদের দ্বারা শাসিত অন্য কোনও সীমান্তবর্তী রাজ্যে হয়নি?’’