গণনার ১৩ দিন পর গণভোটের ফলাফল সংশোধন করল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি-র তরফে গণভোটের ফলাফলের সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। তাতে আগে প্রকাশিত ফলাফলের চেয়ে মোট প্রদত্ত ভোট ১০ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কম। সংশোধিত ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে। বেড়েছে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা।
সংশোধিত ফলাফলের গেজেটে বলা হয়েছে, গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ২১ হাজার ৪০৭টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৭৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৯৬। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ৬ কোটি ৯১ লক্ষ ৮৬ হাজার ২১১। ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লক্ষ ২৫ হাজার ৯৮০। ‘না’ ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লক্ষ ৬০ হাজার ২৩১। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছিল বাংলাদেশে।
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ৮৪ দফা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাবকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল ওই গণভোটে। ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সঙ্গে গণভোটের গণনাও হয়। সে দিন ইসি-র তরফে প্রকাশিত গেজেটে জানানো হয়েছিল, গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৭৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩টি। বাতিল ভোট ৭৪ লক্ষ ২২ হাজার ৬৩৭টি। মোট বৈধ ভোট ৭ কোটি ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৮৬। ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লক্ষ ৬৬০। ‘না’ ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লক্ষ ৭১ লাখ ৭২৬।
২০২৫ সালের ৫ অগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের বর্ষপূর্তিতে ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন ইউনূস। ওই ঘোষণাপত্র ছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গেই জুলাই সনদে রয়েছে, জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ কয়েকটি বিরোধী দলের জাতীয় সংসদ সদস্যেরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নিলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দল বিএনপির সংসদ সদস্যেরা সংবিধান সংস্কার পরিষদে যোগ দেননি।