কাশ্মীর নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান। আবার বসতে চাইছে আলোচনাতেও। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসেও এই দ্বিমুখী কৌশল বজায় রাখল ইসলামাবাদ। এক দিকে কাশ্মীর নিয়ে সুর চড়ালেন পাক রাষ্ট্রদূত। অন্য দিকে ওয়াগা সীমান্তে মিষ্টি বিনিময় করলেও কাশ্মীরের পুঞ্চে সংঘর্ষবিরতি ভাঙল পাক বাহিনী।
কাশ্মীরে সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে পাক চাপের পাল্টা হিসেবে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও বালুচিস্তানে ইসলামাবাদের অত্যাচারকে হাতিয়ার করেছে ভারত। ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বালোচ নেতানেত্রীরা। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিটে নতুন ভাবে গোলমাল শুরু হয়েছে। হাওয়া বিপরীত দিকে যাচ্ছে দেখে ভারতের কাছে আলোচনার বার্তা পাঠিয়েছেন পাক নেতৃত্ব। কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে সুরও এখনই নরম করতে রাজি নন তাঁরা।
আজ দিল্লিতে নিজেদের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পাক হাইকমিশন। সেই অনুষ্ঠানেই পাক হাইকমিশনার আব্দুল বাসিত বলেন, ‘‘এই দিনটি কাশ্মীরের স্বাধীনতার নামে উৎসর্গ করা হল। কাশ্মীরের মানুষ স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান তাঁদের লড়াইকে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন জানাবে।’’ তাঁর আশা, ‘‘যতই বলপ্রয়োগ করা হোক না কেন, কাশ্মীরের মানুষের এই স্বাধীনতা যুদ্ধ এক দিন সফল হবে।’’ বাসিতের বক্তব্য নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি দিল্লি। কিন্তু কৌশলে জবাব দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে। অশান্ত কাশ্মীরের মানুষকে সাহায্য পাঠানোর আর্জি জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেন, ‘‘এ এক অবাস্তব আর্জি। জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।’’ পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য,‘‘ভারত ও উপমহাদেশের অন্য দেশগুলি পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাস, অস্ত্র, মাদক বা কালো টাকার সঙ্গে পরিচিত।’’
পুঞ্চের বোমা বিস্ফোরণে আহতদের চিকিৎসা চলছে জম্মুর হাসপাতালে। ছবি: পিটিআই।
সাউথ ব্লক সূত্রের মতে, পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা চাইলেও ভারত তাতে রাজি হয়নি। বরং সন্ত্রাস নিয়ে আলোচনার উপরে জোর দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বার্তা দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছিল ইসলামাবাদের উপরে। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে বাসিত সে কাজটাই করতে চেয়েছেন।
সীমান্তেও এ দিন নিজেদের দ্বিমুখী কৌশল খাটিয়েছে পাকিস্তান। বিশেষ বিশেষ দিনে সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের বাহিনীর মধ্যে সৌজন্য ও মিষ্টি বিনিময় পুরনো প্রথা। আজ পঞ্জাবের ওয়াগা সীমান্তে ওই প্রথা মেনে সৌজন্য বিনিময় করেছে বিএসএফ ও পাক রেঞ্জার্স। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চে সংঘর্ষবিরতি ভেঙে গুলি চালিয়েছে সেই রেঞ্জার্সই। তাতে আহত হয়েছেন এক মহিলা। জবাব দিয়েছে ভারতীয় বাহিনীও। গত কালই পুঞ্চের একটি বাজারে গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত হন ১১ জন। সেনা সূত্রের মতে, পুঞ্চে মেশিনগান ও মর্টার হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে বড় জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটাতে চায় পাকিস্তান।
প্রতিবেশীর এই দুই মুখের মোকাবিলা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।