পাকিস্তানের জেলে মৃত ভারতীয় নাগরিক কৃপাল সিংহের দেহ ফেরত পাঠালো পাকিস্তান। কিন্তু দেহে হৃদপিণ্ড, পাকস্থলী এবং লিভার নেই। দেহের এই তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কেটে নিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে মৃতদেহ। পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে কৃপাল সিংহের ওই তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে বিস্তর।
পাকিস্তানে গুপ্তচর বৃত্তি করা এবং নাশকতার অভিযোগে ১৯৯২ সালে ভারত-পাক সীমান্তের খুব কাছ থেকে কৃপাল সিংহকে গ্রেফতার করে পাক সীমান্তরক্ষী বাহিনী রেঞ্জার্স। পাকিস্তানের আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগেই কোট লাখপত জেলে কৃপালের মৃত্যু হয়েছে। পাক কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পোস্টমর্টেম এবং নানা সরকারি আনুষ্ঠানিকতা মেটার পর কৃপাল সিংহের দেহ ভারতে পাঠানো হল তাঁর মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ পর। দেহ আসার পর দেখা গিয়েছে, তাতে হৃদপিণ্ড, পাকস্থলী এবং লিভার নেই। ওই তিন অঙ্গের ফরেনসিক পরীক্ষা করার জন্য লাহোরের জিন্নাহ্ হাসপাতালে তা রাখা হয়েছে বলে পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে। কিন্তু, মৃত্যুর পর কৃপাল সিংহের দেহ এক সপ্তাহ সে দেশে থাকা সত্ত্বেও ওই তিন অঙ্গের ফরেনসিক পরীক্ষা এর মধ্যে করে নেওয়া গেল না কেন? কৃপাল সিংহের পরিবার প্রশ্ন তুলেছে তা নিয়েই। মৃতের পরিজনদের দাবি, ভারতে আলাদা করে পোস্টমর্টের করা হোক। পাকিস্তানের পোস্টমর্টের রিপোর্টের উপর বিশ্বাস রাখা উচিত নয়।
আরও পড়ুন:
‘জেলের মধ্যে ওরা আমাকে অন্তত ২০০০ বার ধর্ষণ করেছিল’...
২০১৩ সালে পাকিস্তানের কোট লাখপত জেলে ভারতীয় বন্দি সরবজিৎ সিংহের উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। সেই হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। কৃপাল সিংহ সরবজিতের পাশের সেলেই থাকতেন। নিজের শহর পঞ্জাবের গুরুদাসপুরে তাঁর শেষকৃত্য হবে। মঙ্গলবারই কৃপাল সিংহের দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জেল থেকে লেখা তাঁর শেষ চিঠিটিও পরিবারের হাতে পৌঁছেছে। সেই চিঠি লিখলেও আর পোস্ট করার সুযোগ পাননি কৃপাল। চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘‘আমি ভাল নেই। তোমরা আজকাল আমাকে আর চিঠি লিখছো না। ... দয়া করে আমার জন্য ভাল উকিল ঠিক করে আমার মুক্তির ব্যবস্থা কর। তোমরা কি আমার মৃতদেহ দেকার জন্য অপেক্ষা করছ?’’ কৃপাল সিংহের এই চিঠিই বলছে, তিনি কোনও বিপদের আশঙ্কাতেই ছিলেন। বলছে ওয়াকিবহাল মহল।