নিট পরীক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পটনা। ফরেন্সিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই এই ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। তদন্তকারী এক সূত্রের খবর, ফরেন্সিক পরীক্ষায় ছাত্রীর পোশাকে বীর্যের নমুনা মিলেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্তের গাফিলতির অভিযোগে কদমকুয়াঁ থানার অতিরিক্ত ওসি হেমন্ত ঝা এবং চিত্রগুপ্ত নগর থানার সাব-ইনস্পেক্টর রোশনি কুমারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পটনার চিত্রগুপ্ত নগরে মেয়েদের একটি হস্টেল থেকে নিট পড়ুয়া ওই তরুণীকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল এ মাসের গোড়াতে। নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সে জন্য ওই হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছিলেন। বেশ কয়েক দিন কোমায় থাকার পর গত ১১ জানুয়ারি তরুণীর মৃত্যু হয়। পরিবার অভিযোগ তোলে, তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। হস্টেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ারও অভিযোগ তোলে তারা।
আরও পড়ুন:
নিট পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। পটনা পুলিশ সুপারের দফতরের তরফে বলা হয়েছে, তরুণীর পোশাকে বীর্যের নমুনা মিলেছে। গত ১০ জানুয়ারি পুলিশের হাতে তরুণীর ওই পোশাক তুলে দেয় তাঁর পরিবার। তার পর পুলিশ সেই পোশাক ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠায়। সেই বীর্য থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ধৃত অভিযুক্ত এবং সন্দেহভাজনদের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তরুণীর যৌনাঙ্গে ক্ষতচিহ্ন মিলেছে। এ ছাড়াও নখের আঁচড়ের দাগ মিলেছে শরীরে। তরুণীর মৃত্যুর পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পটনা। ক্ষোভ বাড়তে থাকে ক্রমশ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় হস্টেল মালিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসক পরীক্ষার পর দাবি করেন, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে তরুণীর। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যৌন হেনস্থার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
অন্য দিকে, মৃতার পরিবারকে সবরকম আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর।