ইনি বললেন র্যাম্বোর কথা। উনি দিলেন‘ডন’-এর তুলনা। কংগ্রেস নেতা পবন খেরার আগাম জামিনের আর্জিনিয়ে এমনই নাটকীয় সওয়াল-জবাবের পরে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রাখল তেলঙ্গানা হাই কোর্ট। আগামিকাল রায় দেওয়া হতে পারে বলে খেরার অন্যতম আইনজীবী পোন্নম অশোক গৌড় সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিণিকি ভুঁইয়া শর্মার একাধিক পাসপোর্ট ও বিদেশেবিপুল সম্পত্তি রয়েছে বলে খেরা দাবি করার পরে রিণিকি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা ও সাইবার অপরাধের ধারায় মামলা করেছিলেন। খেরাকে ধরতে অসম পুলিশ তাঁর দিল্লির বাসভবনে হানা দেওয়ায় দিল্লি হাই কোর্ট ওতেলঙ্গানা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন খেরা। এ দিন খেরার আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা অভিষেকমনু সিঙ্ঘভি ভিডিয়ো-মাধ্যমে শুনানিতে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত খেরার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকরেছে অসমের মুখ্যমন্ত্রীহিমন্তবিশ্ব শর্মার সরকার। মানহানির দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলাহতেই পারে, কিন্তু অসম পুলিশ কেন এর জন্য এমন এক জনকে এ ভাবে গ্রেফতার করতে চাইছে, যিনি দাগি অপরাধী নন,যিনি বিমানে দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে না? হিমন্তের বিতর্কিত এআই-ভিডিয়োর দিকে ইঙ্গিত করে সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘আমরা সাংবিধানিক কাউবয়দের যুগে বাস করছি না, যেখানে হোলস্টার থেকে সব বার করে আনা হবে, মানহানিরঅভিযোগ দায়ের হওয়ায় অসম থেকে একশো জনকে দিল্লির নিজ়ামুদ্দিনে পাঠানো হবে। এমনি এমনি ‘সাংবিধানিক কাউবয়’ কথাটা বলছি না। এ সব দেখে র্যাম্বোওহেসে ফেলবেন!’’
প্রতিহিংসার তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে অসমের অ্যাডভোকেট জেনারেল দেবজিৎ শইকিয়া বলেন, খেরা দিল্লির স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি এখন হায়দরাবাদে এসে তেলঙ্গানায় আগাম জামিন চাইছেন, যা হতে পারে না। তিনিও পাল্টাফিল্মি অনুষঙ্গ টেনে বলেন, এফআইআর পড়তে পড়তে অক্ষয়কুমার অভিনীত ‘ইন্টারন্যাশনাল খিলাড়ি’ বা ‘ডন’ ছবির কথা মনে পড়ছিল তাঁর। শইকিয়ার কটাক্ষ, ‘‘অভিযুক্তের সঙ্গে এইশব্দটাই লাগসই।’’ খেরার বিরুদ্ধে আধার কার্ড জালিয়াতির অভিযোগও তোলেন তিনি। সিঙ্ঘভিবলেন, খেরার স্ত্রী হায়দরাবাদের বাসিন্দা। তিনি এই দক্ষিণী রাজ্যে ভোটেও লড়েছেন। খেরা স্ত্রীর সঙ্গেই থাকেন। গুয়াহাটি পুলিশের এফআইআর দায়ের হওয়ার সময়ে তিনি হায়দরাবাদে ছিলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)