হাইলাকান্দির এস কে রায় হাসপাতালের প্রেক্ষাগৃহে তখন সবে শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযানের অনুষ্ঠান। মঞ্চে ছিলেন অসমের পূর্তমন্ত্রী পরিমল শুল্কবৈদ্য। সেই সময় সভাকক্ষের দরজা বন্ধ করতে যান হাসপাতালের কর্মীরা। তা দেখেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিমলবাবু। তিনি বলেন, ‘‘দেড় দশক ধরে অসমে প্রশাসনিক অনেক কাজ বন্ধ দরজার ও পারে হয়েছে। এ বার সেই ছবিটা বদলাবে। এখানে ভাল একটা কাজের সূচনা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সেটা জানতে দিন।’’ পরিমলবাবুর নির্দেশে প্রেক্ষাগৃহের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সকলকে উন্নততর অসম গড়তে সকলের সাহায্য চান। তিনি বলেন, ‘‘হাইলাকান্দিতে উন্নয়নের জোয়ার বইছে বলে শুনেছিলাম। কিন্তু এই হাসপাতালে এসে দেখলাম জেলায় উন্নয়ন কার্যত শূন্য।’’ হাইলাকান্দি হাসপাতালের বেহাল দশার কথা তুলে পরিমলবাবু জানান, হাসপাতালে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক রয়েছেন। ১৬ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে । মন্ত্রী বলেন, ‘‘গুয়াহাটি ফিরেই এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে আলোচনা করব। এই হাসপাতালে আরও চিকিৎসক নিয়োগের আর্জিও তাঁকে জানাব।’’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হাইলাকান্দির বিধায়ক আনোয়ার হুসেন লস্কর। ওই হাসপাতালের বেহাল অবস্থার পরিবর্তনে পরিমল শুক্লবৈদ্যের সাহায্য চান তিনি। লস্কর জানান, উন্নয়নের প্রশ্নে কোনও রাজনীতি তিনি করতে চান না। অনুষ্ঠানে হাইলাকান্দির অতিরিক্ত জেলাশাসক অমলেন্দু রায়, স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালক উমেশ ফাংচু, এস কে রায় হাসপাতালের সুপার সমরজিৎ চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন। তা শেষ হওয়ার পর মন্ত্রীকে নিয়ে বিজেপি কর্মীরা মিছিল করে শহরের টাউন হলে নিয়ে যান। জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়। মন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সকলকে কাজ করতে হবে।’’