বরফের নীচে চাপা পড়া একটি দেহ। দেহের কিছুটা অংশ বরফের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসেছিল। সেই দেহের ঠিক পাশেই ঠায় বসে থাকতে দেখা গেল পোষ্য একটি পিটবুলকে। প্রবল তুষারপাত হচ্ছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। তার মধ্যেই মালিকের দেহ আগলে চার দিন ধরে বসে রইল সেই পোষ্য। হিমাচলের চম্বা জেলা থেকে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রকাশ্যে এল। পিটবুলের হিংস্রতা এবং হামলার ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক কালে অনেক খবরই প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি ২০২৪ সালে ২৩টি প্রজাতির কুকুরের প্রজনন এবং বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞাও জারি করে কেন্দ্র। তার মধ্যে পিটবুলও ছিল। কিন্তু হিমাচলের এই ঘটনায় পিটবুল সম্পর্কে একেবারে বিপরীত ছবি ধরা পড়েছে।
ঘটনাটি ভরমৌরের। পাহাড়ের বেশ উঁচুতে রয়েছে এই জায়গাটি। জানা গিয়েছে, সেখানেই পোষ্যকে নিয়ে থাকতেন যুবক। প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরেই হিমাচলে তুষারপাত হচ্ছে। পাহাড়ের উঁচু এলাকায় এই তুষারপাতের পরিমাণ আরও বেশি। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই হিমদুর্যোগে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন ওই যুবক। সন্দেহ করা হচ্ছে, প্রবল ঠান্ডার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এমনিতেই লোকজন ঘর থেকে বার হচ্ছেন না। ফলে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর গ্রামের কেউই পাননি।
চার দিন পর আবহাওয়া পরিস্থিতির একটু উন্নতি হতেই গ্রামবাসীরা ওই যুবককে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পড়ে থাকতে দেখেন। বরফের নীচে চাপা পড়ে ছিল তাঁর দেহ। শুধু পরনের শীতবস্ত্র এবং দেহের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছিল। তবে যে ঘটনাটি সকলকে চমকে দিয়েছিল তা হল, ওই যুবকের পোষ্য পিটবুল। দেহের পাশে ঠায় বসেছিল সে। চার দিন ধরে ঠান্ডা, খিদে উপেক্ষা করেও মালিকের দেহ আগলে বসে ছিল পোষ্যটি। উদ্ধারকারীরা খবর পেয়ে ভরমৌরে পৌঁছোন। দেহটি উদ্ধারের চেষ্টা করতে গেলে পোষ্যটি প্রথমে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষণ পর পোষ্যকে শান্ত করে দেহটি উদ্ধার করা হয়। এক গ্রামবাসী বলেন, ‘‘মালিকের দেহ কিছুতেই ধরতে দিচ্ছিল না পোষ্য পিটবুল। তার পর সেটিকে নানা ভাবে শান্ত করানো হয়। পোষ্যটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’
হিমাচলে গত কয়েক দিন ধরেই প্রবল তুষারপাত হচ্ছে। রাজ্য জুড়ে এক হাজারেরও বেশি রাস্তা বন্ধ। বিপুল যানজটে নাজেহাল পর্যটকেরা। রাস্তাতেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। কেউ কেউ আবার হেঁটেও গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। তবে আগামী দিন তুষারপাত আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।