E-Paper

উন্নাও: সাজায় স্থগিতাদেশ বাড়ানোর আবেদন খারিজ

২০১৮ সালের এপ্রিলে ভুয়ো অভিযোগে অস্ত্র আইনে নির্যাতিতার বাবাকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। অভিযোগ, তার আগে অতুল ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ওই ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করেন।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭

—প্রতীকী চিত্র।

উন্নাও ধর্ষণ-কাণ্ডে নির্যাতিতার বাবার হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারের ভাই জয়দীপ সিংহ সেঙ্গার ওরফে অতুল সিংহ সেঙ্গার। চিকিৎসাজনিত অন্তর্বর্তী সাজা স্থগিত ও জামিনের মেয়াদ আর না বাড়িয়ে দিল্লি হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, সাজা স্থগিত ও জামিন আরও বাড়ানোর আবেদনের উপর কোনও পরবর্তী শুনানি হওয়ার আগে তাঁকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কোর্ট জানিয়েছে, এটি দেওয়ানি মামলা নয়। তাই অন্তর্বর্তী নির্দেশ নিজে থেকে বা স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলতে পারে না। নির্দিষ্ট আদেশ ছাড়া সাজা স্থগিত থাকবে ধরে নেওয়া যায় না।

২০১৮ সালের এপ্রিলে ভুয়ো অভিযোগে অস্ত্র আইনে নির্যাতিতার বাবাকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। অভিযোগ, তার আগে অতুল ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ওই ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় ৯ এপ্রিল পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তী ময়না তদন্তে ওই ব্যক্তির দেহে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে। যা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগকে জোরালো করে।

এই ঘটনায় দিল্লির একটি বিশেষ সিবিআই আদালত ২০২০ সালের ১৩ মার্চ কুলদীপ ও তাঁর ভাই অতুল-সহ মোট সাত জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ (অনিচ্ছাকৃত হত্যা) এবং ১২০-বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র)-সহ একাধিক ধারায় তাঁদের প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক দোষীর ওপর ১০ লক্ষ টাকা করে জরিমানা ধার্য করে আদালত, যা নির্যাতিতার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ হয়।

সাজার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকার সময় চিকিৎসাজনিত অন্তর্বর্তী সাজা স্থগিত ও জামিনে অতুল জেলের বাইরে ছিলেন। পরে তাঁর চিকিৎসার জন্য জামিন ও ও সাজা স্থগিত রাখার মেয়াদ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে নতুন কোনও আদেশ না থাকা সত্ত্বেও তিনি বাইরে থেকেই যান, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।

শুক্রবার দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি নবীন চাওলা ও বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, চিকিৎসার কারণে আগে দেওয়া অন্তবর্তী জামিন এবং সাজা স্থগিত রাখার আদেশ নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্তই কার্যকর ছিল। এর পরে তা নিজে থেকেই বেড়েছে ধরে নেওয়া যাবে না। বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, সাজা স্থগিত ও জামিন আরও বাড়ানোর আবেদনের উপরে নতুন করে কোনও শুনানি হওয়ার আগে অতুলকে আগে জেলে ফিরতে হবে। একই সঙ্গে কুলদীপের ফৌজদারি আপিল দ্রুত শুনানির জন্য ইতিমধ্যে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী মামলাটি প্রাধান্য দিয়ে তালিকাভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Unnao court case

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy