ক্যাপ্টেন সুমিত কপূর ওরফে বানি। এই নামেই তাঁকে চিনতেন পাইলট থেকে আত্মীয়স্বজনেরা। তিন দিন হল বানির মৃত্যু হয়েছে বারামতী বিমান দুর্ঘটনায়। যে দুর্ঘটনায় একই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা-সহ পাঁচ জনের। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শেষকৃত্য হয়েছে বানির। পরিবার বলতে বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী, এক পুত্র এবং এক কন্যা। সুমিতের পুত্র শিবও একজন পাইলট। কন্যা সানিয়ার বিয়ে হয়েছে এক পাইলটের সঙ্গে।
খুড়তুতো বোন, যিনি সুমিতের সঙ্গেই শৈশব থেকে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন, তিনি বলেন, ‘‘ও আমাদের সকলের কাছে বানি নামেই বেশি পরিচিত ছিল। কোনও পারিবারিক অনুষ্ঠান বানিকে ছাড়া ভাবা যেত না। ও ছিল সকলের খুশি এবং আনন্দের অনুপ্রেরণা।’’ প্রিয় সেই বানিকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান পরিজনেরা। দিন কয়েক আগেই হংকং থেকে ফিরেছিলেন সুমিত। বুধবার অজিত পওয়ারের বিমান চালানোর কথা ছিল না তাঁর। এক সংবাদমাধ্যমের কাছে সুমিতের বন্ধু এবং সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ওই দিন অন্য এক পাইলটের বিমান ওড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু তিনি যানজটের কারণে আটকে পড়েন। তখন শেষ মুহূর্তে সুমিতের উপর সেই বিমান ওড়ানোর দায়িত্ব পড়ে।
পওয়ারকে নিয়ে লিয়ারজেট ৪৫ বিমান মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দেয় সকাল ৮টায়। ঠিক পৌনে ৯টা নাগাদ বিমানটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার, পাইলট সুমিত, সহকারী পাইলট শম্ভাবী পাঠক, বিমানকর্মী পিঙ্কি মালি, অজিত পওয়ারের নিরাপত্তারক্ষী বিদীপ যাদবের মৃত্যু হয়। প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে বিমান অবতরণে পাইলটের কোনও ‘ভুল সিদ্ধান্তের’ জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এই তত্ত্বের জোরালো বিরোধিতা করেছেন সুমিতের বন্ধু এবং সহকর্মীরা। তাঁদের দাবি, সুমিত একজন অভিজ্ঞ পাইলট। ২০ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। বিমান প্রযুক্তির বিষয়ে এতটাই দক্ষ ছিলেন যে, তাঁকে বোয়িং ৭৩৭-এর পরীক্ষক হিসাবেও নিয়োগ করেছিল জেট এয়ারওয়েজ়। ৯০-এর দশকে সহারা এয়ারলাইন্সের সবচেয়ে দক্ষ পাইলট ছিলেন তিনি। এমনকি তাঁকে সংস্থার চেয়ারম্যানের ‘ডান হাত’ও বলতেন সহকর্মীরা। সহকর্মী এক পাইলট বলেন, ‘‘বোয়িং ৭৩৭-এর পরীক্ষক হওয়া মানে অসামরিক বিমান পরিবহণের দুনিয়ায় চরম পর্যায়ে পৌঁছোনো। আর সেটাই নিজের দক্ষতায় হয়েছিলেন সুমিত।’’
অন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণও দিতেন বানি। গত পাঁচ বছর ধরে ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। যখনই তিনি এই সংস্থার বিমান চালিয়েছেন, সহ-পাইলটের আসনে থাকতেন শম্ভাবী পাঠক। বিমান দুর্ঘটনায় শম্ভাবীরও মৃত্যু হয়েছে। সুমিতের বন্ধুরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না, তাঁর সিদ্ধান্তে কোনও ‘ভুল’ ছিল। তাই তাঁরা সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।