×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৫ জুন ২০২১ ই-পেপার

‘অটল টানেল’ ধরে দ্রুত সেনা পৌঁছবে শীতের লাদাখে

সংবাদ সংস্থা
শিমলা ০৩ অক্টোবর ২০২০ ১৫:৫৫
অটল টানেলের ‘সাউথ পোর্টাল’। ছবি: পিটিআই।

অটল টানেলের ‘সাউথ পোর্টাল’। ছবি: পিটিআই।

হিমাচল প্রদেশের রোটাং পাসের নয়া টানেল ‘কাছে এনে দিল লাদাখ’কে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করলেন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামাঙ্কিত টানেলের। এর মাধ্যমে মানালি থেকে লেহ্‌র মধ্যে দূরত্ব ৪৬ কিলোমিটার কমে যাবে। যাতায়াতের সময়ও কমবে অন্তত চার ঘণ্টা। এড়ানো যাবে তুষারপাত জনিত সমস্যা। ফলে আসন্ন শীতের মরশুমেও দ্রুত পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছনো সম্ভব হবে।

পিরপঞ্জল পাহাড় খুঁড়ে তৈরি ‘অটল টানেলে'র দৈর্ঘ্য ৯.২ কিলোমিটার। সমুদ্রতল থেকে গড় উচ্চতা ১০ হাজার ফুট। নির্মাণকারী সংস্থা ‘বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন’ (বিআরও) জানিয়েছে, এমন উচ্চতায় এটিই বিশ্বের দীর্ঘতম সড়ক-সুড়ঙ্গ। অশ্বক্ষুরাকৃতি এই টানেলের ভিতরে রয়েছে দুই লেনের রাস্তা। দু’দিকে রয়েছে ফুটপাত। এই টানেল দিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ছোট চার চাকার গাড়ি ও দেড় হাজার ট্রাক যেতে পারবে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৮০ কিমি গতিতে।

এ দিন জাতির উদ্দেশে ‘অটল টানেল’ উৎসর্গ করতে গিয়েও অবশ্য রাজনীতির ছোঁয়াচ এড়াননি প্রধানমন্ত্রী মোদী। পূর্বতন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে উপেক্ষার অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে যে গতিতে এই টানেলের কাজ চলছিল, তাতে ২০৪০ সালের আগে কাজ শেষ হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না। পাশাপাশি মোদীর মন্তব্য, ‘‘আমাদের সরকার ২৬ বছরের কাজ ৬ বছরে করে দেখিয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, নব্বইয়ের দশকের মধ্যপর্বে লাদাখের সঙ্গে স‌ংযোগরক্ষার জন্য এই টানেল নির্মাণের কাজের সূচনা হয়েছিল।

Advertisement



টানেলের অন্দরে। ছবি: পিটিআই।

হিমাচল প্রদেশের মানালি থেকে লাহুল-স্পিতি পর্যন্ত বিস্তৃত এই টানেলের উদ্বোধনে এ দিন মোদীর সঙ্গে হাজির ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়ত এবং সেনাপ্রধান এম এম নরবণে। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, তুষারপাতের কারণে মানালি-লেহ্ হাইওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয় বছরে অন্তত পাঁচ মাস। সেই সমস্যা এ বার দূর করবে ‘অটল টানেল’।

আরও পড়ুন: শীতের লাদাখে পাতালে তেলের ট্যাঙ্ক, প্রস্তুত ভারতীয় সেনা

টানেলের অন্দরে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। আগুনের মোকাবিলার জন্য রয়েছে জলের পাইপলাইন এবং ৫০ মিটার অন্তর ‘ফায়ার রেটেড ডাম্পার’। নিরাপত্তা নজরদারির উদ্দেশ্যে ২৫০ মিটার অন্তর থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। টানেলের ‘সাউথ পোর্টাল’-এর অবস্থান মানালি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে। ‘নর্থ পোর্টাল’-টি লাহুল উপত্যকার তেলিংয়ের সিসু গ্রামে।

আরও পড়ুন: আজারবাইজানকে পরমাণু-হুমকি আর্মেনিয়ার, পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ নয়াদিল্লির

Advertisement