উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদে তিন বোনের ফোন উদ্ধার করল পুলিশ। দুর্ঘটনার মাস তিনেক আগে কিশোরীদের একটি ফোন বিক্রি করেছিলেন তাদের বাবা চেতন কুমার। পরে কন্যাদের আরও একটি ফোন বিক্রি করে দেন। চেতন মোট দু’টি ফোন বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। কিন্তু কাদের কাছে সেই ফোন বিক্রি করা হয়েছিল, সেই তথ্য পেতেই দু’টি ফোন উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কিশোরীদের ফোন ঘেঁটে দেখা হচ্ছে কী ধরনের গেম, গান, নাটক এবং ছবি দেখত তাঁরা। তবে শুধুই কি গেমে আসক্তির জন্য আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে, তা নিয়েও সন্দেহ বাড়ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছে, পরিবারের মধ্যে অশান্তির একটা চোরাস্রোত বইছিল। কিশোরীদের ডায়েরিতেও তার কিছু ইঙ্গিত মিলেছে। আর এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তিন বোনের মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ নেই তো?
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) নিমিশ পাটিল জানিয়েছেন, সুইসাইড নোটে বেশ কয়েকটি অনলাইন গেমের উল্লেখ রয়েছে। সেই গেমগুলি ইতিমধ্যেই বন্ধ করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে পুলিশ। ডিসিপি-র বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ‘‘সুইসাইড নোটে পাঁচটি অনলাইন গেমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারকে এই পাঁচটি গেম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেই প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছেও যাবে।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, যে পাঁচটি গেমের কথা সুইসাইড নোটে উল্লেখ ছিল, সেগুলি হল— পপি প্লেটাইম, দ্য বেবি ইন ইয়েলো, ইভিল নান, আইসক্রিম ম্যান এবং আইসক্রিম গেম।
ডিসিপি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তদন্তে খুনের বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়নি। তবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসাবে ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দিল্লিতে পুলিশের একটি দল গিয়েছে কিশোরীদের মামারবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার গাজ়িয়াবাদের একটি বহুতলের ১০তলা থেকে তিন বোন ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। কেন তিন বোন আত্মহত্যা করল, তা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে অনলাইম গেমে আসক্তিকে কারণ হিসাবে ধরা হচ্ছে। তবে নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সমান্তরাল ভাবে সেই মতো তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।