ল্যাম্বরগিনিতে চালকের আসনে কে ছিলেন? কানপুরের তামাক ব্যবসায়ী কেকে মিশ্রের পুত্র শিবম না কি তাঁর ড্রাইভার? উঠছে সেই প্রশ্ন। কানপুরের গ্বালটোলী এলাকায় ভিআইপি রোডের ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার শিবমের আইনজীবী দাবি করেন, ল্যাম্বরগিনির স্টিয়ারিং শিবমের হাতে ছিল না। গাড়ি চালাচ্ছিলেন পরিবারের এক চালক। যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান পেশ করে তাদের দাবি, গাড়ি চালাচ্ছিলেন শিবমই।
রবিবার উত্তরপ্রদেশের কানপুরের রাস্তায় ১০ কোটি টাকা দামের ল্যাম্বরগিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জনবহুল রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি ছোটাচ্ছিলেন চালক। সেই সময়েই প্রথমে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাইকে ধাক্কা মারে ল্যাম্বরগিনিটি। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে, বাইকআরোহী প্রায় ১০ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। বাইকে ধাক্কা মারার পরে সেটিকে ঘষতে ঘষতে বেশ কিছু দূর নিয়ে যায় গাড়িটি। শেষে রাস্তার ধারে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে থেমে যায় সেটি।
পুলিশ পরে জানায়, কেকে মিশ্রের ছেলেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। আরও জানায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ল্যাম্বরগিনিটি। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা মারে সেটি। যদিও মঙ্গলবার শিবমের আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় কুমার দাবি করেন, ওই সময় তাঁর মক্কেল গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। পরিবারের ড্রাইভারই চালকের আসনে ছিলেন। মৃত্যুঞ্জয়ের কথায়, ‘‘আমরা আদালতের সামনে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করব।’’ তাঁর দাবি, ওই ঘটনাটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে না-দেখে দুর্ঘটনা হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।
আরও পড়ুন:
যদিও কানপুরের পুলিশ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রতক্ষ্যদর্শীদের বর্ণনা ও অন্য প্রমাণকে সামনে রেখে মৃত্যুঞ্জয়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘প্রতক্ষ্যদর্শীদের বয়ান এবং পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে বলা যায় চালকের আসনে ছিলেন শিবমই।’’
রবিবারের ওই দুর্ঘটনার পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ পথচারীরা গাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন। ব্যবসায়ীর পুত্র শিবম গাড়ির ভিতরেই আটকা পড়েন। জানা যাচ্ছে, গাড়িতে শিবমের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরাও ছিলেন। তাঁরা উত্তেজিত জনতাকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গাড়িচালক এবং অন্য আহতদের উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ওই ল্যাম্বরগিনিটিকেও। দায়ের করা হয় এফআইআর।