রন্ধন যদি শিল্প হয়, পরিবেশনও কিছু কম নয়। কিন্তু পরিবেশন করার মাধ্যম নিয়ে মাঝেমধ্যেই ধন্দে পড়ে যান অনেকে। কোন বাসনের যে কী নাম, কোন বাসনের কী উদ্দেশ্য, তা স্পষ্ট হয় না অনেকের কাছে। ঠিক যেমন, খাবার পরিবেশন করতে গিয়ে ট্রে, প্ল্যাটার আর প্লেটের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন কেউ কেউ। চেহারার দিক থেকে প্রত্যেকটিই থালার মতো বটে, কিন্তু আসলে তিনটির কাজ তিন রকম। আর এই পার্থক্য বুঝে গেলে রান্নাঘর থেকে টেবিলে খাবার আনা, অতিথি আপ্যায়ন, এমনকি প্রতি দিনের খাবার সাজানো— সবই অনেক সহজ হয়ে যায়।
ট্রে
ট্রে-র ব্য়বহার। ছবি: সংগৃহীত
ট্রে মূলত বাহক হিসেবে কাজ করে। রান্নাঘর থেকে খাবার, গ্লাস, কাপ, বাটি বা প্লেট একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রে ব্যবহার করা হয়। ট্রে তুলনামূলক ভাবে একটু বড়, সমতল আর প্রান্তগুলি সামান্য উঁচু থাকে। প্রান্তগুলি ধরেই জিনিস বহন করা হয়। এর উপর সরাসরি খাবার রাখা হয় না। ট্রে নানা আকার-আকৃতির হতে পারে। সরু, চওড়া, চৌকো, আয়তাকার, গোলাকৃতি— ট্রে বানানোও এক প্রকার শৈলী। তাই অভিনব, রুচিসম্মত ট্রে বেছে নিলে হেঁশেলসজ্জায় অন্য মাত্রা যোগ হতে পারে। এক হাতে কাপ, অন্য হাতে বিস্কুট, আবার জল— এ ভাবে আলাদা আলাদা করে নিয়ে গেলে হাত ফসকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে, সময়ও বেশি লাগে। কিন্তু ট্রেতে সব একসঙ্গে সাজিয়ে নিলে চটজলদি, পরিপাটি ভাবে পরিবেশন করা যায়।
প্ল্যাটার
প্ল্যাটারের ব্যবহার। ছবি: সংগৃহীত
প্ল্যাটার হলো সাজিয়ে পরিবেশনের থালা। প্ল্যাটার সাধারণত প্লেটের চেয়ে বড় হয়। এটিতে খাবার সাজিয়ে টেবিলে রাখা হয়, যাতে সবাই ভাগ করে নিয়ে নিতে পারেন নিজের মতো। ধরা যাক, কাটলেট, কবাব, স্যান্ডউইচ, পিঠে, ফল, বা স্টেক, ইংলিশ ব্রেকফাস্ট— এ সব প্ল্যাটারে সাজালে দেখতে সুন্দর লাগে, আবার খেতেও সুবিধা হয়। ট্রে যেমন অনেক রকমের জিনিস (চা, পানীয়, খাবার, বিস্কুট) বহন করতে কাজে লাগে, প্ল্যাটার ঠিক সে রকম নয়। একই খাবারের নানা রকমের ধরন, একটিই পদের আনুষঙ্গিক জিনিস দিয়ে সাজানো হয় প্ল্যাটার। এমন ধরনের খাবার পরিবেশনের জন্য প্ল্যাটারের প্রয়োজন পড়ে। প্ল্যাটার অনেক সময়ে লম্বা হয়, অনেক সময়ে গোল, আবার অনেক সময়ে ডিম্বাকৃতি। এর উদ্দেশ্য একটিই— খাবারকে মাঝখানে তুলে ধরার জায়গা করে দেওয়া।
প্লেট
প্লেটের ব্যবহার। ছবি: সংগৃহীত
প্লেট হল ব্যক্তিগত থালা। খাওয়ার টেবিলে প্লেট প্রত্যেকে নিজের সামনে রাখেন এবং সেখান থেকেই খান। প্লেটের আকার সাধারণত মাঝারি হয়। ছোটও হতে পারে। প্লেটের মাঝখানের অংশ একটু নিচু থাকে, যাতে খাবার ছড়িয়ে না পড়ে। প্লেটের সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা হল— এটি আপনার নিজস্ব। আপনি যতটুকু খাবেন, ততটুকুই আপনার প্লেটে থাকবে। অন্য কেউ সেই প্লেট থেকে খাবেন না। ট্রে বা প্ল্যাটার থেকে নিজের খাবারের অংশটুকু তুলে প্লেটে নিয়ে খেতে হবে।
ট্রে, প্ল্যাটার আর প্লেট— তিনটি জিনিস আলাদা হলেও, একসঙ্গে ব্যবহার করলে খাওয়ার টেবিলের পরিবেশই বদলে যেতে পারে। যেমন ট্রেতে করে খাবার এনে রাখা, প্ল্যাটারে খাবার সাজিয়ে টেবিলে দেওয়া, তার পর সবাই নিজের প্লেটে নিয়ে খাওয়া— এই নিয়ম মেনে পরিবেশন করলে তা রুচিসম্মত এবং পরিপাটি হয়।