পেট গোলমাল করলেই ঘরে পাতা এক বাটি টক দই খেয়ে নিতে হবে। ছোট থেকেই এই পথ্যে ভরসা রাখেন। গুরুজনদের থেকে শেখা এই টোটকা ভুল নয়। প্রোবায়োটিকে ভরপুর টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর ব্যাক্টেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। এখন অসুখ হলেই যে ভাবে মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া হয় বা কার্বোনেটেড পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি যে রকম আসক্তি বেড়েছে, তাতে প্রোবায়োটিক খুবই জরুরি। প্রোবায়োটিক হল অন্ত্রের সেই স্বাস্থ্যকর, উপকারী ব্যাক্টেরিয়া, যা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে পেটের পরিবেশ সুস্থ রাখে।
তবে টক দই ছাড়া আরও একাধিক খাবার প্রোবায়োটিক হিসেবে ভাল কাজ করতে পারে।
এমন ৫টি খাবারের তালিকা দেওয়া হল নীচে—
কাঞ্জি: এটি এক ধরনের ফার্মেন্টেড বা গেঁজিয়ে নেওয়া পানীয়। এতে উদ্ভিজ্জ প্রোবায়োটিকের সংখ্যা বেশি। যদি দুগ্ধজাত পণ্য পেটে সহ্য না হয়, তা হলে কাঞ্জি দইয়ের জায়গা নিতে পারে। বিট, কালো সর্ষে এবং জল দিয়ে কাঞ্জি বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও এই মজানো পানীয়ের একাধিক রেসিপি হতে পারে।
আচার: আম, লেবু, লঙ্কা— এমন সব উপকরণ মজিয়ে ঘরে বানানো আচার খেলে অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর ব্যাক্টেরিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে ভিনিগার দিয়ে বানানো আচার কিন্তু আবার প্রোবায়োটিকের ভাল উৎস নয়। নুন, তেল এবং সময়— এই তিন উপকরণের ব্যবহার করে বানানো আচার প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। খাওয়ার পাতে এক চামচই যথেষ্ট।
কিমচি: কোরিয়ার ঐতিহ্যশালী একটি খাবার, কিমচি প্রোবায়োটিকের দুর্দান্ত উৎস। বিভিন্ন সব্জি (বাঁধাকপি, মুলো, রসুন ইত্যাদি) মজিয়ে আচারের মতো করেই তৈরি করতে হয় বিশেষ এই খাবারটি। যে কোনও খাবারের পাশে নিয়ে খেতে ভাল লাগবে।
কিমচি। ছবি: সংগৃহীত
কেফির: ছানা, দই, ইয়োগার্টের তালিকায় নতুন সংযোজন কেফির। দুধ মজিয়ে কেফির বানানো হয়। প্রক্রিয়া অনেকটাই দই পাতার মতো। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিক থাকে। কেফির খুব বেশি ঘন হয় না, তাই স্মুদি হিসেবে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
কেফির। ছবি: সংগৃহীত
মিসো: জাপানের ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার হল মিসো। সয়াবিন পেস্টকে মজিয়ে বানানো হয় প্রোবায়োটিকে পরিপূর্ণ এই খাবার। সয়াবিন, নুন এবং কোজি নামক এক ছত্রাক দিয়ে বানানো হয় এটি। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ থেকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো, ক্যানসারের সম্ভাবনা রোধ করা থেকে অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখা— মিসো বিবিধ কাজের কাজি।