দিল্লি বিল সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই মণিপুরের হিংসা এবং বিরোধী রাজ্যগুলিতে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন বিরোধী সাংসদেরা। আজ তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মণিপুরের হিংসা নিয়ে সরব হতেই পাল্টা আক্রমণে পশ্চিমবঙ্গে হিংসা, বিশেষ করে মহিলাদের উপর হওয়া অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে সরব হন খোদ সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী। এক সময়ে দিল্লির পরিবর্তে আলোচনার অভিমুখ ঘুরে যায় পশ্চিমবঙ্গের দিকে।
অ-বিজেপি রাজ্যগুলিতে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই সরব বিরোধী দলগুলি। গতকালই রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের ভূমিকা নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই কাজ করছেন বর্তমান রাজ্যপাল। আর আজ দিল্লি বিতর্ক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে লোকসভায় কল্যাণ প্রশ্ন করেন, ‘‘কেন অ-বিজেপি রাজ্যগুলিতে রাজ্যপাল এত সক্রিয়? সংবিধান প্রণেতারা কোনও দিনই ভাবতে পারেননি যখন যে রাজ্যে কেন্দ্রের শাসক দল ক্ষমতায় নেই, সেই রাজ্যের রাজ্যপাল সংবিধান লঙ্ঘনের মতো কাজ করবেন। তা হলে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মামলা করতে না পারার রক্ষাকবচটি সম্ভবত দিতেন না।’’
রাজ্যপাল পদের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি না, সেই পুরনো বিতর্ক উস্কে দেন ডিএমকে নেতা দয়ানিধি মারান। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ডিএমকে দলের প্রতিষ্ঠাতা আন্নাদুরাই বলেছিলেন, ছাগলের যেমন দাড়ির দরকার নেই, তেমনি রাজ্য চালাতে রাজ্যপালেরও প্রয়োজন নেই।’’ রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরব হয় শাসক দল। সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, ‘‘রাজ্যপাল রাজ্যের সর্ব্বোচ্চ পদে রয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে এ ভাবে বলা যায় না।’’ তিনি স্পিকারকে রাজ্যপালের সমালোচনা সংক্রান্ত বিষয়গুলি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নে সওয়াল করেন।
আজ মণিপুর প্রশ্নে একই ভাবে সরব হন মারান-কল্যাণ জুটি। ডিএমকে সাংসদ বলেন, ‘‘মণিপুর জ্বলছে। আমরা মণিপুর নিয়ে আলোচনা চাই। প্রধানমন্ত্রী মণিপুর নিয়ে সংসদের বাইরে সরব। অথচ সংসদে তিনি কিছু বলছেন না। বিরোধীরা চান, প্রধানমন্ত্রী মণিপুর প্রশ্নে সংসদে মুখ খুলুন।’’
সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখতে জাতীয় মহিলা ও মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গে সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু গত চার মাসে মণিপুরে গোষ্ঠী সংঘর্ষ চলা সত্ত্বেও মহিলা, মানবাধিকার, তফসিলি জাতি ও জনজাতি কমিশনের কত জন সদস্য সে রাজ্যে গিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী পাল্টা বলেন, ‘‘যে ভাবে মণিপুরের প্রসঙ্গ উঠছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের উপরে কী ধরনের অত্যাচার হয়েছে, তা নিয়েও সংসদে আলোচনা করা হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)